বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন – DesheBideshe



ওয়াশিংটন, ২৬ আগস্ট – বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করার কারণে ভিসাসেবা সংক্রান্ত সময়সূচিতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অভিযানের আওতায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত পোষণ কিংবা গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো কারণে অনেকের মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারিত ছিল, তাদের ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে এই অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করাই তার এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রশাসনকে কিছু আইনি বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক প্রশাসনের একটি বিশেষ নীতি বাতিল করে দিয়েছেন। ওই নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই বিশেষ প্রশিক্ষণের সময়সূচি নিয়ে বিস্তারিত কিছু না জানালেও এর উদ্দেশ্য পরিষ্কার করেছে। তারা জানিয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমনভাবে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে যাতে তারা ওই সব আবেদনকারীকে শনাক্ত করতে পারেন যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন।

এছাড়া ভিসাপ্রার্থীদের আবেদনের মূল্যায়ন যেন সব ক্ষেত্রে অভিন্ন ও ধারাবাহিক হয়, সেটি নিশ্চিত করাও এই প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আবেদনকারীদের ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে সাক্ষাৎকারের নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, এই অভিযান বৈষম্যমূলক এবং এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে। তাদের মতে, এর ফলে দেশটিতে বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এনএন/ ২৬ আগস্ট ২০২৬



Scroll to Top