ঝটিকা মিছিলসহ বেআইনি সমাবেশের বিষয়ে মনিটরিং জোরদার করা হবে এবং এর নেপথ্যে যারা সক্রিয় রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আজ রোববার ৭ সেপ্টেম্বর যমুনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এতে ১০ জন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, পুলিশের মহাপরিদর্শক, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর প্রতিনিধিগণ।
বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, স্থানীয় প্রশাসন যেন আরও সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সে বিষয়ে আজকের বৈঠকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় থাকা প্রয়োজন বলেও বৈঠকের আলোচনায় উঠে এসেছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, আসন্ন দুর্গাপূজায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে নানারকম ষড়যন্ত্রমূলক চেষ্টা হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘গতবছর দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভালো অভিজ্ঞতা ছিল। গত বছরের অভিজ্ঞতা যেন এবছরও কাজে লাগাতে পারি।’
তিনি জোর দিয়েছেন সব ধরনের নিরাপত্তায় যেন আগাম প্রস্তুতি থাকে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে দেশের সকল ধর্মভিত্তিক সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমাগতভাবে মনিটরিং করতে হবে। এজন্য নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর মধ্যে কো-অর্ডিনেশন বাড়ানো হবে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের আগাম প্রস্তুতি রাখতে হবে।
এর পাশাপাশি ডাকসু নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয় সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
বৈঠকে আলোচনায় আসে যে, পতিত, পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি যখন দেখছে দেশ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে এবং হত্যাযজ্ঞের সাথে জড়িতদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে ততই তারা ডেসপারেট ও বেপরোয়া হয়ে পড়ছে। এর ফলে তারা দেশের সার্বিক শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার জন্য এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার জন্য সকল শক্তি নিয়ে মাঠে নামছে।
এটা কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নয় বরং এটি একটি জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে কাউকে ন্যূনতম ছাড় দেয়া হবে না।
সরকার মনে করে, এ দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।
এছাড়া, রাজবাড়ীর নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও মরদেহে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ভিডিও দেখে এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
তিনি বলেন, ঘটনার চারটি দিককে চিহ্নিত করে তদন্ত চলছে। পুলিশ ও প্রশাসনের গাড়ি ভাঙচুর, মাজার ভাঙচুর, কবর থেকে লাশ উত্তোলন এবং লাশ পুড়িয়ে ফেলা। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ অব্যাহত রয়েছে। ঘটনায় যারা জড়িত বা তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।





