আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে যুক্তরাষ্ট্র: কলম্বিয়া

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে যুক্তরাষ্ট্র: কলম্বিয়া

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের তার ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, গাজায় ইসরায়েলের অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।এর আগে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র জানায়, গুস্তাভো পেত্রোর ভিসা বাতিল করা হবে। তার আগের দিন নিউইয়র্ক শহরের রাস্তায় প্রো-প্যালেস্টাইন (ফিলিস্তিনপন্থী) বিক্ষোভে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশ অমান্য করার আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে যুক্তরাষ্ট্র: কলম্বিয়াআন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে যুক্তরাষ্ট্র: কলম্বিয়া

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পেত্রো লেখেন, “আমার আর আমেরিকায় যাওয়ার ভিসা নেই। আমার তাতে কিছু যায় আসে না। আমার শুধু কলম্বিয়ান পরিচয় নয়, আমি একজন ইউরোপিয়ান নাগরিকও, এবং আমি নিজেকে সত্যিকার অর্থে বিশ্বের একজন মুক্ত মানুষ মনে করি।”

তিনি আরও বলেন, “গণহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে ভিসা বাতিল প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র আর আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করে না।”
উল্লেখ্য, গাজায় চালানো অভিযানের কারণে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বারবার গণহত্যার অভিযোগ উঠলেও তেল আবিব সরকার তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে দেওয়া এক ভাষণে পেত্রো বলেন, “ফিলিস্তিনি জনগণকে মুক্ত করতে একটি আন্তর্জাতিক সশস্ত্র বাহিনী গঠন করতে হবে, এবং এই বাহিনীর শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বেশি হতে হবে।”

এটি প্রথম নয় যে কোনো কলম্বিয়ান প্রেসিডেন্টের মার্কিন ভিসা বাতিল হলো। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আর্নেস্তো স্যাম্পারের ভিসাও বাতিল করা হয়েছিল, তার নির্বাচনী প্রচারণায় কালি মাদক চক্রের অর্থ জড়িত থাকার অভিযোগে।

সেন্ট মার্টিন বন্ধ ছিল না, পর্যটক নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে

গুস্তাভো পেত্রোর প্রেসিডেন্সিতে যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক বেশ অবনতির দিকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এ সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন দেখা দেয়। এ বছরের শুরুতে গুস্তাভো পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো ফ্লাইট বন্ধ করে দেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি আসে। যদিও পরবর্তীতে দুই দেশ এক সমঝোতায় পৌঁছায়। -রয়টার্স

Scroll to Top