ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার। একই সঙ্গে ইরানের ওপর হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মূল্য দিতে হবে’ বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির জেনারেল এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোহাম্মদ রেজা নাকদি মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের প্রতিরোধ ব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শত্রু দেশ ইরানের ওপর হামলা চালানোর সাহস না পায়। এ জন্য যুদ্ধকে ট্রাম্পের পরবর্তী মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্তও দীর্ঘায়িত করা হতে পারে।
নাকদি বলেন, এই যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, আমরা তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করব। আমেরিকার সঙ্গে কীভাবে যুদ্ধ করতে হয়, তা শেখার জন্য প্রকৃত যুদ্ধের অভিজ্ঞতা আমাদের আগে কখনো হয়নি। গত পাঁচ মাসে আমরা তা শিখেছি। পরবর্তী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পর্যন্ত এই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করা এবং ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো একটি উপায় হতে পারে। এতে অন্য কেউ ইরানকে আক্রমণ করতে চাইলে বুঝতে পারবে যে এর জন্য মূল্য দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নাকদি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ভুল হতে পারে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করলে বিশ্বজুড়ে দেশটির সামরিক ঘাঁটিগুলো বড় ধরনের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে।
ইরান নিজে পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর কোনো প্রয়োজন নেই। নাকদির ভাষায়, আমাদের পারমাণবিক বোমা হলো বিশ্বের মানুষের হৃদয়, যা আমরা নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয় করেছি। ইরানিদের ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান নিয়েও কথা বলেন এই আইআরজিসি কমান্ডার। তার দাবি, এই স্লোগান সাধারণ মার্কিন জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং মার্কিন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ বলতে আমেরিকার নেতৃত্বের মৃত্যু বোঝানো হয়, যারা পরাশক্তি হওয়ার পর থেকে বহু দেশে আগ্রাসন চালিয়েছে বা মানুষের অধিকার লঙ্ঘন করেছে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে নাকদি দাবি করেন, তাদের সক্ষমতা শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওপর নির্ভরশীল নয়।
তিনি বলেন, ইরান প্রতিদিন যতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে, তার চেয়েও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম। তার দাবি, যুদ্ধ যদি বছরের পর বছরও চলতে থাকে, শেষ দিন পর্যন্ত ইরান ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে পারবে।
এদিকে যুদ্ধের স্থায়ী অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করা এবং তা বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ এখনো রয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগও করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নৌপথ পুনরায় চালু করার শর্ত পূরণ করেনি। অন্যদিকে ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, যার মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহার এবং জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ও রয়েছে। ফলে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।


