টানা তিন বিশ্বকাপে (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) বাছাই পর্ব পেরোতে পারেনি ইতালি। এমনকি বাছাইয়ের প্লে অফ খেলেও বিশ্বমঞ্চে জায়গা করতে পারেনি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে ইতালিই প্রথম দল, টানা তিন বিশ্বকাপ খেলা হয়নি যার। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও মেক্সিকোতে চলতি আসরে দেশটি না থাকলেও ইতালিয়ান কোচরা আছেন তিনটি দেশের ডাগআউট। তাদের কৃতিত্ব ও আসরে সম্ভাবনার জায়গাটা দেখে নেয়া যাক।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল ক্লাব কোচ কার্লো আনচেলত্তির হাত ধরে নতুন পথচলা শুরু করেছে ব্রাজিল। ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য সাফল্যের পর প্রথমবার কোন জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে ইতালিয়ান এ কোচ সেলেসাওদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণের মিশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে আনচেলত্তি ইউরোপ শীর্ষ ক্লাবে সাফল্যের ছাপ রেখেছেন। এসি মিলান, চেলসি, পিএসজি, বায়ার্ন মিউনিখ এবং রিয়াল মাদ্রিদে লিগ ও মহাদেশীয় পর্যায়ে একাধিক শিরোপা জিতেছেন। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সাফল্য তাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা কোচে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিশ্বকাপের দেড়বছর আগে ব্রাজিলের দায়িত্ব নিয়ে আনচেলত্তি দলটিকে ছন্দে ফিরিয়ে এনেছেন। তবে মরক্কোর সঙ্গে প্রথম ম্যাচে হোঁচট খেয়েছে তার দল। শনিবার ভোর সাড়ে ৬টায় গ্রুপপর্বে হাইতির মুখোমুখি হবে সেলেসাও দল। গ্রুপ ‘সি’তে ব্রাজিলের আরেক সঙ্গী স্কটল্যান্ড। আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা এবং বড় টুর্নামেন্টে সফলতার ইতিহাস ব্রাজিলের জন্য কতটা কার্যকর সেটা সময় হাতে।
খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ আগেই পেয়েছেন আরেক ইতালিয়ান ফ্যাবিও ক্যানাভারো। বিশ্বমঞ্চে নতুন পরিচয়ে অভিষেক হয়েছে এ কিংবদন্তির। উজবেকিস্তানের প্রধান কোচ হয়ে ডাগআউটে দাঁড়াচ্ছেন ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। উজবেকদের দায়িত্ব নিয়েই বিশ্বকাপে এনেছেন, দেশটির ফুটবল ইতিহাসে যা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপে উজবেকিস্তান প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার সঙ্গে ৩-১ গোলে হেরেছে। গ্রুপে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল ও ডিআর কঙ্গো। প্রথম ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি, ক্যানাভারো বিশ্বাস করেন এখনও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম দলটি। সামনের ম্যাচগুলোতে তার কৌশল এবং অভিজ্ঞতা উজবেকিস্তানের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
আরেক ইতালিয়ান ভিনসেঞ্জো মন্তেলা সামলাচ্ছেন তুরস্কের ডাগআউট। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ২-০তে হেরেছে তার দল। গ্রুপ ডি’তে অন্য দুই প্রতিপক্ষ স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ে। তুলনামূলক কঠিন গ্রুপে থাকা দলটির জন্য নকআউট পর্বে খেলা সহজ হবে না। দলটির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই খেলায় শৃঙ্খলা, সংগঠন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মানসিকতার স্পষ্ট পরিবর্তন এনেছেন সাবেক ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড। ২০১১ সালে ইতালিয়ান ক্লাব রোমার কোচিংয়ে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করা ভিনসেঞ্জো এসি মিলান ও সেভিয়ার মতো দলকেও কোচিং করিয়েছেন।




