তিস্তার দুঃখ ঘোচাতে ১৩-১৪ হাজার কোটি টাকার ‘মেগা প্রকল্প’! সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে কাজ শুরুর ঘোষণা মন্ত্রীর! – DesheBideshe

তিস্তার দুঃখ ঘোচাতে ১৩-১৪ হাজার কোটি টাকার ‘মেগা প্রকল্প’! সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে কাজ শুরুর ঘোষণা মন্ত্রীর! – DesheBideshe


তিস্তার দুঃখ ঘোচাতে ১৩-১৪ হাজার কোটি টাকার ‘মেগা প্রকল্প’! সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে কাজ শুরুর ঘোষণা মন্ত্রীর! – DesheBideshe

লালমনিরহাট, ১৯ জুন – উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। তিস্তা নদীকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি বহুল প্রতীক্ষিত ‘মেগা প্রকল্প’ গ্রহণ করেছেন। কোনো বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর না করে, সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে এবং দেশি-বিদেশি কারিগরি সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ‘তিস্তা মেগা প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হবে।

আজ শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প ‘তিস্তা ব্যারেজ’ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই মেগা প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, তিস্তা নদীর অববাহিকার রূপ বদলে দিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। সরকারের বিশেষ প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই কাজের সার্বিক অগ্রগতি প্রতিদিন তদারকি করছেন।

মন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ অঞ্চলের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিস্তার দুঃখ তিনি দূর করবেন। তিনি তাঁর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ইতিমধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন।”

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা ও সমীকরণের কাজ ইতিমধ্যেই সফলভাবে শেষ হয়েছে। দেশের ৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল এই প্রকল্পটির চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরিতে দিনরাত কাজ করছেন। সব ঠিক থাকলে আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই এই মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক যাত্রা বা গ্রাউন্ডব্রেকিং শুরু হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কেবল নদী শাসন বা ভাঙন রোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং শীত ও শুষ্ক মৌসুমে যখন নদীতে পানি থাকে না, তখন কীভাবে নদীটিতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা যায়—সেই স্থায়ী বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাও এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”

তিস্তার ঐতিহাসিক পটভূমি স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ অঞ্চলের কৃষিতে বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্যে তিস্তা সেচ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। আজ তারই যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে, ইনশাআল্লাহ।”

ব্যারেজ পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান এমপি এবং রোকন উদ্দিন বাবুল এমপি। মতবিনিময় শেষে মন্ত্রী তিস্তা তীরবর্তী তীব্র নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় নদীপাড়ের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজ-খবর নেন।

২০২৬ সালের এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উত্তরবঙ্গের মঙ্গাপীড়িত ও নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত হওয়া মানুষের জীবনে এক নতুন অর্থনৈতিক বিপ্লব আসবে।

সরকারের এই নিজস্ব অর্থায়নের সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে দেখছেন? কমেন্টে আপনার মতামত জানান!

এনএন/ ১৯ জুন ২০২৬



Scroll to Top