
ঢাকা, ৩০ মে – বিশ্বের অস্থির ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত বাংলাদেশি চার হাজারেরও বেশি সদস্যসহ ৫০ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষীর অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতিসংঘ।
২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে বিশ্ব সংস্থাটি শান্তিরক্ষীদের নিষ্ঠা ও সাহসিকতার এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি প্রদান করেছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে শান্তিতে বিনিয়োগ।
জাতিসংঘ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে শান্তিরক্ষীদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে বিশ্বশান্তিতে আর্থিক ও রাজনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শান্তিরক্ষীদের কাজ বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতায় আরও বেশি বিনিয়োগের জরুরি প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।
দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ৫০ হাজারেরও বেশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মোতায়েন রয়েছেন। তারা বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দিচ্ছেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা করছেন। নিজ দেশ থেকে বহু দূরে গিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু এলাকায় তারা শত্রু পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানো, ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর কাজে তদারকি, নির্বাচন আয়োজনে সহায়তা এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন।
গুতেরেস অতীত ও বর্তমান সব শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে ১৯৪৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তিনি।
মহাসচিব শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান। তিনি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে স্থিতিশীলতা ও আশার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একটি পরীক্ষিত ও সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে বর্ণনা করেন।
আগামী ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে নিহতদের স্মরণ করবেন গুতেরেস। এ ছাড়া দায়িত্ব পালনকালে নিহত কর্মীদের মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান অনুষ্ঠানেও তিনি সভাপতিত্ব করবেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে সামরিক জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার এবং ওম্যান পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার পুরস্কারও দেওয়া হবে।
এনএন/ ৩০ মে ২০২৬






