বৈশ্বিক ইস্যুতে প্রভাবশালী প্রতিবেদনের জয়, পুলিৎজার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা | চ্যানেল আই অনলাইন

বৈশ্বিক ইস্যুতে প্রভাবশালী প্রতিবেদনের জয়, পুলিৎজার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা | চ্যানেল আই অনলাইন

বিশ্ব সাংবাদিকতার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পুলিৎজার পুরস্কারের ২০২৬ সালের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এবারের পুরস্কারে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণধর্মী সাংবাদিকতাকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহ্যগতভাবে পুলিৎজার পুরস্কার প্রদান করে থাকে।

এই বছরও বিভিন্ন বিভাগে আধিপত্য বজায় রেখেছে রয়টার্স, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এবং দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। জাতীয় রিপোর্টিং বিভাগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াশীল কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করে রয়টার্স পুরস্কার অর্জন করে। একই সংস্থা বিট রিপোর্টিং বিভাগেও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধানের জন্য স্বীকৃতি পায়।

অন্যদিকে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠদের ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি এই বিভাগে পুরস্কৃত হয়। মতামত বিভাগে একই প্রতিষ্ঠানের এম গেসেনও সম্মাননা পান। ব্রেকিং নিউজ ফটোগ্রাফি বিভাগে গাজায় যুদ্ধ পরিস্থিতির চিত্রধারণ করে পুরস্কার জিতেছেন নিউইয়র্ক টাইমসের ফটোসাংবাদিক সাহের আলগোররা।

জনসেবা বিভাগে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট পুরস্কার অর্জন করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক সংস্কার ও তার প্রভাব নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য। একই প্রতিষ্ঠানের জাহি চিকওয়েন্দিউ ফিচার ফটোগ্রাফি বিভাগে একটি আবেগঘন ছবির গল্পের জন্য সম্মাননা পান। ব্রেকিং নিউজ রিপোর্টিং বিভাগে মিনেসোটা স্টার ট্রিবিউনের সাংবাদিকরা একটি স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে কভারেজের জন্য পুরস্কৃত হন।

ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনে সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের তিন সাংবাদিক বীমা খাতের অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানের জন্য স্বীকৃতি পান। স্থানীয় সাংবাদিকতায় দুটি পুরস্কার দেওয়া হয় একটি কানেকটিকাট মিরর ও প্রোপাবলিকার যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য এবং অন্যটি শিকাগো ট্রিবিউনের অভিবাসন অভিযান নিয়ে প্রতিবেদনের জন্য।

আন্তর্জাতিক রিপোর্টিং বিভাগে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকরা বৈশ্বিক নজরদারি প্রযুক্তি নিয়ে অনুসন্ধানের জন্য পুরস্কার পান। ফিচার রাইটিং বিভাগে টেক্সাস মান্থলির অ্যারন পার্সলি একটি বন্যার করুণ অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা প্রতিবেদনের জন্য সম্মাননা অর্জন করেন। এছাড়া সমালোচনা বিভাগে ডালাস মর্নিং নিউজের মার্ক ল্যামস্টার, ইলাস্ট্রেটেড রিপোর্টিংয়ে ব্লুমবার্গের সাংবাদিক দল এবং অডিও রিপোর্টিংয়ে ‘পাবলো টরে ফাইন্ডস আউট’ পডকাস্ট দল পুরস্কৃত হয়।

সাহিত্য, ইতিহাস, নাটক ও সংগীত বিভাগেও বিভিন্ন লেখক ও শিল্পীকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। কথাসাহিত্য বিভাগে ড্যানিয়েল ক্রাউস, নাটকে বেস ওহল, ইতিহাসে জিল লেপোর, জীবনীতে আমান্ডা ভাইল, আত্মজীবনীতে ইয়িয়ুন লি, কবিতায় জুলিয়ানা স্পার এবং সাধারণ নন-ফিকশনে ব্রায়ান গোল্ডস্টোন পুরস্কার পান। সংগীতে গ্যাব্রিয়েলা লেনা ফ্রাঙ্ক এবং বিশেষ সাংবাদিকতা সম্মাননায় জুলি কে ব্রাউনকে ভূষিত করা হয়।

১৯১৭ সাল থেকে প্রদান করা এই পুলিৎজার পুরস্কারকে সাংবাদিকতার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবারের তালিকায় বৈশ্বিক রাজনৈতিক চাপ ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সাহসী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব আবারও তুলে ধরা হয়েছে।

Scroll to Top