বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এক মাসের ব্যবধানে একটি কৃষক পরিবারের বসতভিটাসহ প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নদীপাড়ের হাজারো মানুষ এখন বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নদীর পানি ১৫ দশমিক ৫৭ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা এখনও বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ার ধারা অব্যাহত রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে যমুনার তীরের মাটি ও বালুর স্তর ধসে নদীতে পড়ে যাচ্ছে। এর ফলে একের পর এক ফসলি জমি, বসতভিটা এবং দীর্ঘদিনের জনবসতি নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান গ্রামের মাঝামাঝি প্রায় ২০০ মিটার এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। এই অংশে ইতোমধ্যে শত শত বিঘা কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে।
শহড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক জুয়েল সেখ নদীতীরে দাঁড়িয়ে নিজের বসতভিটা ভেঙে যেতে দেখছিলেন। তিনি জানান, পৈতৃক ভিটায় প্রায় একশ বছরের পুরোনো বসতবাড়িটি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি কয়েক বিঘা আবাদি জমিও হারিয়েছেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে পুরো শহড়াবাড়ি গ্রামই একসময় মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।
এদিকে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলা এবং টিউব ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।




