আর্জেন্টিনার তারকা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ জানিয়েছেন, ভাঙা আঙুলের যন্ত্রণা নিয়েই তিনি পুরো বিশ্বকাপ খেলছেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ডান হাতের অনামিকা আঙুলে চিড় ধরলেও অস্ত্রোপচার না করে দেশের হয়ে মাঠে নামাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিরর-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২০ মে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে অনুশীলনের সময় মার্তিনেজের আঙুলে চোট লাগে। এরপর ব্যান্ডেজ বেঁধেই তিনি ফাইনালে খেলেন এবং দলের ৩-০ গোলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে ম্যাচের পর চিকিৎসকেরা তাকে অন্তত এক মাস বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন।
চোটের কারণে তিনি প্রিমিয়ার লিগের শেষ ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে খেলতে পারেননি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের আগে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি ম্যাচ থেকেও ছিটকে যান।
মার্তিনেজ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যান্ডের একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তার আঙুলে অস্ত্রোপচার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ হারাতে চাননি বলেই তিনি সেই সিদ্ধান্ত নেননি।
তিনি বলেন, *“আমার হাতে এখনো প্রতিদিন ব্যথা অনুভব করি। জানতাম এটি খুবই কষ্টকর হবে। তবুও অস্ত্রোপচার করাইনি, যদিও সব বিশেষজ্ঞই সেটির পরামর্শ দিয়েছিলেন।”*
আর্জেন্টাইন এই গোলরক্ষক আরও জানান, গ্রুপ পর্বে চোটের কারণে স্বাভাবিকভাবে অনুশীলনও করতে পারেননি। তবে শেষ ষোলোর ম্যাচের পর ধীরে ধীরে ব্যথা কাটিয়ে ওঠেন।
তার ভাষায়, *“গ্রুপ পর্বে ঠিকভাবে অনুশীলন করতে পারিনি। তবে শেষ ষোলোর পর থেকে চোট নিয়ে আর ভাবিনি। এখন নিজেকে অনেক ভালো লাগছে।”*
বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা কোচের একটি কথাও তাকে মানসিকভাবে শক্তি জুগিয়েছিল বলে জানান মার্তিনেজ।
তিনি বলেন, *“কোচ আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি যে অবস্থাতেই থাকো না কেন, আমি তোমাকে আমার দলে চাই।’ এই একটি বাক্য আমার কাছে দশটি পেনাল্টি ঠেকানো বা সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় জায়গা পাওয়ার চেয়েও মূল্যবান।”*
এদিকে ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও মার্তিনেজ জানিয়েছেন, তার পুরো মনোযোগ এখন বিশ্বকাপের ফাইনালে। স্পেনকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপা জেতাই তার একমাত্র লক্ষ্য।
কয়েক বছর আগে দুটি বিশ্বকাপ জিতলে অবসরে যাওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। তবে সেই প্রসঙ্গে মার্তিনেজ জানান, সেটি ছিল নিছক মজা।
তিনি বলেন, *“হ্যাঁ, এমন কথা বলেছিলাম। কিন্তু এখন আমাদের আগে জিততে হবে। এই মুহূর্তে আমার একমাত্র লক্ষ্য বিশ্বকাপ জেতা।”*
জাতীয় দলের ধারাবাহিক উন্নতিতে আবেগাপ্লুত হওয়ার কথাও জানান এই বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক।
তার ভাষায়, *“এই দলটি প্রতি বছর আরও ভালো হচ্ছে। আমরা যা অর্জন করেছি, তা ভাবলে অনেক সময় চোখে পানি চলে আসে। সামনে আরও অনেক আনন্দের মুহূর্ত অপেক্ষা করছে।”*
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের আসর অনেক বেশি উপভোগ করছেন বলেও মন্তব্য করেন মার্তিনেজ।
তিনি বলেন, *“কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের পর আমি অনেক কঠিন সময় পার করেছি। এবার অনেক বেশি উপভোগ করছি। এখন বল পায়ে নিয়েও আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী।”*
বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে মার্তিনেজ বলেন, *“রোববার আমাকে হাসিমুখেই মাঠে দেখবেন। আমি পুরোপুরি শান্ত আছি। একজন গোলরক্ষকের দায়িত্ব শুধু বল ঠেকানো নয়, সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস জোগানোও। তারা যখন দেখে আমি শান্ত, তখন আক্রমণভাগও আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারে। এ কারণেই আমরা এই বিশ্বকাপে এত গোল করেছি এবং আগের বিশ্বকাপের তুলনায় কম গোল হজম করেছি।”*



