পর্তুগালে আগুন-বাতাসের তাণ্ডব: নিয়ন্ত্রণে লড়ছেন ১২০০-এর বেশি দমকলকর্মী | চ্যানেল আই অনলাইন

পর্তুগালে আগুন-বাতাসের তাণ্ডব: নিয়ন্ত্রণে লড়ছেন ১২০০-এর বেশি দমকলকর্মী | চ্যানেল আই অনলাইন

তীব্র তাপদাহ আর ঝড়ো বাতাসের যৌথ তাণ্ডবে পর্তুগালের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের বনাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এই দাবানল নিয়ন্ত্রণে ১২ শত দমকলকর্মী কাজ করে যাচ্ছে। 

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত থেকে শুরু করে আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি চরম জটিল রূপ ধারণ করেছে।

দেশের চারটি প্রধান অঞ্চলের সক্রিয় আগুন নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ১,২০০-এর বেশি দমকলকর্মী এবং শত শত যান নিয়োজিত রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে পর্তুগাল সরকার ইতিমধ্যেই পুরো মূল ভূখণ্ডে ‘জরুরি সতর্ক অবস্থা’ ঘোষণা করেছে।

জাতীয় জরুরি ও নাগরিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিজেউ জেলার ভৌজেলা থেকে ছড়ানো আগুন গত রাতে তীব্র বাতাসের কারণে সবচেয়ে মারাত্মক আকার নেয়। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কিমি গতিবেগের ঝড়ো হাওয়া আগুনকে দ্রুত পাশের জেলা আভেইরো-র আগুয়েদা শহরের কাছাকাছি নিয়ে আসে। আগুনের কারণে মুরিস্কা ডো ভউগা এবং অ্যাগুয়েডার মধ্যবর্তী রেলযোগাযোগ সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় আবাসিক বাড়িঘর রক্ষার্থে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভৌজেলার আগুনে একটি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, বেশ কিছু কৃষিজমি এবং কিছু ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৩ জন দমকলকর্মী এবং ১ জন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন। একজনের শরীর আগুনে পুড়ে যাওয়ায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পর্তুগালের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উপকূলীয় সামান্য কিছু এলাকা বাদে পর্তুগালের প্রায় প্রতিটি অঞ্চল এখন দাবানলের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশের বেশ কিছু জায়গায় তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে।

আগামী সোমবার (৬ জুলাই) রাত পর্যন্ত জারি থাকা এই জরুরি সতর্ক অবস্থার কারণে বনাঞ্চলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ, কৃষিকাজে ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং যেকোনো ধরনের আতশবাজি বা আগুন জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আকাশপথে সেনা ও অতিরিক্ত এয়ারক্রাফট নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।

Scroll to Top