
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর – দেশের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে অন্তত ৩২ জন এইচআইভি (HIV) আক্রান্ত বন্দি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে কারাবন্দি থাকা এক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিও রয়েছেন, যিনি জেলের ভেতরেই নিয়মিত পাচ্ছেন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা ও ওষুধপত্র। রোববার এক প্রতিবেদনে কারা অধিদপ্তরের বরাতে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য উঠে এসেছে।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জাতীয় এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় আক্রান্ত এসব বন্দিদের অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART) সহ জেল কোড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, বিশেষ খাদ্য ও ওষুধপত্র নিশ্চিত করা হচ্ছে।
৩৩ কারাগারে এইচআইভি টেস্টের সুবিধা, তবে গোপনীয়তাই বড় বাধা
প্রতিবেদনে জানা যায়, বর্তমানে দেশের ৩৩টি কারাগারে সরাসরি এইচআইভি পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো বন্দির স্বাস্থ্যগত সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত এই টেস্ট করা হয় এবং পজিটিভ শনাক্ত হলে সাথে সাথে এআরটি থেরাপি শুরু হয়। এমনকি জামিনে বা সাজা কেটে খালাস পাওয়ার পরও যাতে চিকিৎসা বন্ধ না হয়, সে জন্য বন্দির সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আগে থেকেই অবহিত করা হয়।
তবে সামাজিক কুসংস্কার, বৈষম্য ও মানসিক হয়রানির আশঙ্কায় অনেক বন্দি কারাগারে প্রবেশের সময় নিজেদের রোগাক্রান্ত হওয়ার তথ্য গোপন করেন। ফলে আক্রান্তদের একটি বড় অংশই অনির্ণীত ও চিকিৎসার বাইরে থেকে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
“তথ্য গোপন করা ও দ্রুত শনাক্ত না হওয়া বড় চ্যালেঞ্জ”— কারা কর্তৃপক্ষ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
কারা উপমহাপরিদর্শক (হেলথ) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আখতার হাসিব দেওয়ান জানান, ব্র্যাকের (BRAC) সহযোগিতায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চললেও কেবল শারীরিক লক্ষণ দেখে রোগটি চেনা অসম্ভব। তথ্য গোপনের কারণে দ্রুত শনাক্তকরণ এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
বিষয়টি নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন—
- নিয়মিত এআরটি থেরাপি: সঠিক সময়ে এআরটি (ART) শুরু করতে পারলে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
- মানবিক মর্যাদা ও গোপনীয়তা: কারাগারের মতো আবদ্ধ পরিবেশে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি বন্দিদের সামাজিক মর্যাদা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি: চরম ঝুঁকিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা!
কারা অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৭৫টি কারাগারে বৈধ ধারণক্ষমতা মাত্র ৪৫,১৮৬ জন। অথচ তার বিপরীতে সেখানে গাদাগাদি করে বাস করছেন ১ লাখ ২,১৮০ জন বন্দি। ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৫৭ হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত লোক থাকায় স্যানিটেশন, সুপেয় পানি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনএন/ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


