
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর – করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করতে বড় ধরনের করছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের (বুধবার) মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে দেয়ে মিলবে ৫ শতাংশ বিশেষ করছাড়! তবে এই সুবিধা সবার জন্য ঢালাওভাবে কার্যকর হবে না এবং শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পরিশোধযোগ্য করের ওপর তা প্রযোজ্য হবে বলে এনবিআর সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে।
আয়কর রিটার্নের নতুন নিয়ম, করছাড়ের ধরন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো একনজরে দেখে নিন।
যেভাবে হিসেব করা হবে করছাড় (সহজ উদাহরণ)
ধরা যাক, বিগত অর্থবছরে (১ জুলাই থেকে ৩০ জুন) আপনার মোট করযোগ্য আয় হয়েছে ৭ লাখ টাকা।
- করমুক্ত সীমা: প্রথম ৪ লাখ টাকার ওপর কোনো কর নেই (০ টাকা)।
- অবশিষ্ট ৩ লাখ টাকা: বাকি ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে প্রদেয় কর আসবে ৩০,০০০ টাকা।
- বিশেষ ছাড়: আপনি যদি ৩০ সেপ্টেম্বর বা বুধবারের মধ্যে রিটার্ন জমা দিয়ে বকেয়া কর মেটান, তবে ৩০,০০০ টাকার
- ওপর ৫% ছাড় (১,৫০০ টাকা) পাবেন।
- চূড়ান্ত প্রদেয় কর: ফলে আপনাকে মোট কর পরিশোধ করতে হবে মাত্র ২৮,৫০০ টাকা।
যেসব করের ওপর এই ছাড় মিলবে না
এনবিআর স্পষ্ট করেছে যে, কেবল রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় যে পরিমাণ প্রদেয় বা পরিশোধযোগ্য কর থাকবে, ছাড় পাওয়া যাবে শুধুমাত্র তার ওপর। সারা বছর ধরে অগ্রিম পরিশোধিত করের ক্ষেত্রে এই সুবিধা মিলবে না—
- সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে আগেই কেটে রাখা অগ্রিম আয়কর (AIT)।
- ব্যাংক ডিপিএস (DPS) বা এফডিআরের (FDR) মুনাফা উত্তোলনের সময় কাটা উৎসে কর।
- চাকরিজীবীদের বেতন থেকে প্রতি মাসে অগ্রিম কেটে নেওয়া ইনকাম ট্যাক্স।
রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা অনুযায়ী সুবিধা ও জরিমানা
এনবিআর চলতি অর্থবছরের বিভিন্ন সময়ে রিটার্ন জমা দেওয়ার ভিত্তিতে নতুন নিয়ম নির্ধারণ করেছে:
সময়সূচি: করদাতাদের জন্য সুবিধাসমূহ ও জরিমানার নিয়ম
- জুলাই — সেপ্টেম্বর: প্রদেয় করের ৫% বা সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা ছাড় (যেটি কম)।
- অক্টোবর — ডিসেম্বর:| কোনো প্রণোদনা বা ছাড় মিলবে না। নির্ধারিত পুরো কর পরিশোধ করতে হবে।
- জানুয়ারি — মার্চ: প্রদেয় করের ওপর ২% বা ৩,০০০ টাকা অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হবে (যেটি বেশি)।
- এপ্রিল — জুন:| প্রদেয় করের ওপর ৫% বা ৫,০০০ টাকা অতিরিক্ত জরিমানা গুণতে হবে (যেটি বেশি)।
ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক ও হালনাগাদ তথ্য
এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (TIN) ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই (জুলাই ও আগস্ট) জমা পড়েছে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার রিটার্ন। উল্লেখ্য, মাত্র ৫টি বিশেষ ক্যাটাগরি ব্যতীত দেশের সকল করদাতার জন্য অনলাইনে ই-রিটার্ন (e-Return) জমা প্রদান সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক।
এনএন/ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


