কেপ ভার্দে মাত্র ৫ লাখ জনসংখ্যার একটি ছোট দেশ, বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে আসা। অন্যদিকে এবারের আসরে শিরোপার দাবিদার স্পেন, দলে রদ্রি, পেদ্রি, গাভি, লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস। কিন্তু ইউরোপিয়ান পরাশক্তিকে একাই থামিয়ে দিলেন ৪০ বর্ষী গোলরক্ষক ভোজিনহা। যিনি খেলেন পর্তুগালের তৃতীয় স্তরের ক্লাব জিডি শ্যাভসে। ফ্রি এজেন্ট এই গোলরক্ষকের বাজারমূল্য কেবল ৫০ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭১ লাখ টাকা)। অথচ সেই ভোজিনহার দেয়াল ভাঙতে পারল না স্পেন।
আটলান্টা ক্যারিয়ারের আইকনিক ম্যাচটি খেলে ফেললেন ভোজিনহা। ১.৮৯ মিটার উচ্চতার এই গোলরক্ষক বিশ্বকাপ অভিষেকে এমন পারফরম্যান্স করলেন, তাতে অমর হয়ে থাকবেন ফুটবল ভক্তদের হৃদয়ে। স্পেন ম্যাচে ২৭ শট নিয়েছে, ৭টি ছিল লক্ষ্যে। বল দখল ছিল ৭৪ শতাংশের বেশি। এমনকি বদলি হিসেবে নামা লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামসের মত তারকারাও কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হন। কারণ গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়েছিলেন ভোজিনহা।
পরিসংখ্যান গত হিসাবই বলে দিবে কেপ ভার্দের ন্যাশনাল হিরো হওয়ার গল্প। ৭টি দুর্দান্ত সেভ, তিনটি সফল হাই ক্লেইম করেন। ৬৫টি সম্পৃক্ততা, ৪২ পাস। পাস সফলতার হার ৬৯ শতাংশ। এই সংখ্যাগুলো শুধু একজন গোলরক্ষকের ভালো ম্যাচের হিসাব নয়, একটি ছোট দেশের বিশ্বকাপ ইতিহাস রক্ষার দলিল। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে ৪০ বছরের বেশি বয়সী গোলরক্ষকদের মধ্যে এমন কীর্তি গড়েছেন খুব কমজন। এর আগে ১৯৮৬ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের হয়ে ১০টি সেভ করেছিলেন প্যাট জেনিংস।
জাতীয় দলের জার্সিতে তার যাত্রা শুরু ২০১২ সালে। তারপর থেকে প্রায় এক যুগ ধরে কেপ ভার্দের গোলপোস্টের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম তিনি। প্রায় ৯০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তিনি দেশের ইতিহাসে অন্যতম বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার।
চার দশক পেরিয়েও বিশ্বমঞ্চে অসাধারণ প্রতিরোধ গড়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখালেন, কিন্তু পরিবারের মানুষরা হতে পারেনি স্বাক্ষী। তাইতো শেষ বাঁশি বাজতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন ভোজিনহা। ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘আমি কেঁদেছিলাম, কারণ ছোটবেলায় আমি আমার দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি, কিন্তু তারা আজ এখানে থাকতে পারেননি। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। আমার মাও এখানে থাকতে পারেননি- ভিসা জটিলতা এবং এর জন্য যে টাকা দিতে হতো, সেই কারণে। আমরা সময়মতো সবকিছু সম্পন্ন করতে পারিনি।’


