সিয়াটলে মহাকাব্য রচনা করেছেন কেপ ভার্দের ৪০ বর্ষী গোলরক্ষ ভোজিনহা। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছেন গোলবারের নিচে অতন্দ্রপ্রহরী হয়ে। বিশ্বকাপে অভিষেক আসরে এমন অর্জনের পর দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্না করেছিলেন ভোজিনহা। ঐতিহাসিক মুহূর্তে পাশে ছিলেন না মা, তাইতো কেপ ভার্দের এই নায়কের কান্না। জানালেন, অর্থের অভাবে সঙ্গে আনতে পারেননি মাকে।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে ভোজিনহা বলেছেন,‘ম্যাচের পর আমি কেঁদেছিলাম, কারণ ছোটবেলায় আমি আমার দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি, কিন্তু তারা আজ এখানে থাকতে পারেননি। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। আমার মাও এখানে থাকতে পারেননি- ভিসা জটিলতা এবং এর জন্য যে টাকা দিতে হতো, সেই কারণে। আমরা সময়মতো সবকিছু সম্পন্ন করতে পারিনি।’
ভোজিনহার এই আবেগ ছুঁয়ে গেছে ফুটবলবিশ্বকেও। বিবিসির বিশ্লেষক ও সাবেক স্কটিশ উইঙ্গার প্যাট নেভিন লিখেছেন, ‘পুরো ম্যাচেই আলো ছড়িয়েছেন ভোজিনহা। ৪০ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে মাঠে যা দেখালেন, তা অবিশ্বাস্য। ম্যাচ শেষে সব ক্যামেরা ছিল তার দিকে। সতীর্থরা আঙুল তুলে দেখিয়ে দিচ্ছিলেন তাদের প্রকৃত নায়ককে।’
সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার লি ডিক্সনও জানালেন, ভোজিনহার কান্না দেখে কান্না চলে এসেছিল তারও। বলেছেন, ‘আমি সত্যিই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। এই একটি পয়েন্ট কেপ ভার্দের প্রাপ্য ছিল। আজকের রাতটা শুধু তাদের। ভোজিনহাকে কাঁদতে দেখে আমার নিজেরই প্রায় কান্না চলে আসছিল।’


