”আমার সাথে অন্যায় করা হয়েছে। আমি এই অন্যায়ের সঠিক বিচার চাই, এবং এর শেষ দেখে ছাড়বো। আমার কেসটা কোর্টে যাওয়ার আগেই আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান আগাম জামিন নিয়েছে। তাকে হেল্প করছে একবজন প্রভাবশালী।
কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ মাধ্যমে কাছে কথাগুলো বলেছেন ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী।
তিনি আরও বলেন, আমাকে মেরে ফেলার জন্য হুমকি দেয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আমাকে গাড়িচাপা দিয়ে মেরে ফেলা হবে। এই অন্যায়ের সঠিক বিচার চাই।
তার মূল অভিযোগ, গেল শুক্রবার আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূইয়ার বিরুদ্ধে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও নির্যাতন!
এই অভিযোগে রবিবার রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় অভিযোগ জমা দিয়েছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। তবে তার দাবি, অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেও প্রথমে তা গ্রহণ করা হয়নি। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
স্নিগ্ধার সুষ্ঠ বিচারের দাবীতে রায়হান রাফী, নওশাবা আহমেদ, আজমেরী বাঁধন, নীল হুরেরাজাহানম রওনক হাসান থেকে অনেকেই সরব হয়েছেন।
খিলক্ষেত থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২৪ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে ইমন নামে এক ব্যক্তি তাকে আশিয়ান গ্রুপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার প্রস্তাব দেন। এ জন্য ১৬ লাখ টাকায় চুক্তির কথা হয়। পরে ওই দিন রাত ৮টার দিকে মাকে সঙ্গে নিয়ে খিলক্ষেত থানাধীন ৩০০ ফুট এলাকায় আশিয়ান মেডিকেল কলেজের একটি অফিসে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূইয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি।
অভিযোগে স্নিগ্ধা দাবি করেন, তার মা বাসায় ফিরে যাওয়ার পর নজরুল ইসলাম ভূইয়া তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তোকে আমি ৬ মাস যাবৎ খুঁজতেছি, তুই আমার টাকায় অন্য ব্যাটাকে সঙ্গে নিয়ে বাসার পর্দা কিনেছিস।’
তিনি নজরুল ইসলামকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, ভুল ব্যক্তি হিসেবে তাকে শনাক্ত করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, তখন সঙ্গে থাকা ইমন নামের এক ব্যক্তি তাকে ইশারায় অভিযুক্ত ব্যক্তির কথা মেনে নিতে বলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর নজরুল ইসলাম ভূইয়া একটি শর্টগান বের করে তাকে গুলি করার হুমকি দেন। পরে তার হাত-পা বেঁধে গলা চেপে ধরেন এবং লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। একপর্যায়ে তাকে চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে স্নিগ্ধা আরও দাবি করেন, তাকে জোর করে কফি খাওয়ানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্তের ব্যক্তিগত সহকারী।
তিনি কফি খেতে অস্বীকৃতি জানালে মুখে গরম কফি ছুঁড়ে মারা হয়। অভিযোগে বলা হয়, এরপর অভিযুক্ত কাঁচি হাতে নিয়ে তার চেহারা নষ্ট করার হুমকি দেন এবং তাকে অন্য একজন নারী ভেবে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন চালান।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় মারধরের পর তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক মদের সঙ্গে ওষুধজাতীয় কিছু মিশিয়ে পান করানো হয়। পরে অভিযুক্ত অন্য কক্ষে গেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভবনের প্রথম তলার বারান্দা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে বাসায় ফিরে যান তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার পর এক দিন অচেতন ছিলেন তিনি। ২৬ জুলাই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। পরে স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযোগ দায়ের করেন খিলক্ষেত থানায়।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ভূইয়া বা আশিয়ান গ্রুপের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



