মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নতুন হামলা চালিয়েছে ইরান।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনসহ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সেখানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যে তারা ছয় ঘণ্টাব্যাপী সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। এই সংঘাত এমন এক সময়ে নতুন মাত্রা পেল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, তেহরান আলোচনায় না ফিরলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে। এর আগে ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।

এদিকে ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি মেনে চলার প্রয়োজন তেহরান অনুভব করে না।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবস্থান ও নিয়ন্ত্রণ দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনা এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলার আওতায় ছিল বন্দরনগরী বান্দার আব্বাস এবং বৃহত্তর তুনব দ্বীপও।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং রাজধানী তেহরানসহ একাধিক এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর কুয়েত ও বাহরাইন কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ দেশে হামলার সতর্কতা জারি করে। কুয়েতের সামরিক বাহিনী ড্রোন হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের সাম্প্রতিক হামলায় জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জ্বালানি মজুত কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালীতেও। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল কার্যত ব্যাহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের কয়েকটি বন্দরের ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপ করেছে, যা আগে একটি সমঝোতার অংশ হিসেবে শিথিল করা হয়েছিল। এদিকে মার্কিন বাহিনী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে গুলি চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছে। তাদের দাবি, জাহাজটি একটি অবরুদ্ধ ইরানি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।
মার্কিন অবরোধের জবাবে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য তেল ও গ্যাস রপ্তানি পথও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।



