
ওয়াশিংটন, ১ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা প্রদানের ওপর আরোপিত সাময়িক স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন ফেডারেল আদালতের একটি সাম্প্রতিক রায়ের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
এর আগে গত জানুয়ারি মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ করেছিল। এই ভিসার মাধ্যমে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ এবং পরবর্তীতে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ সুগম হয়।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, যেসব আবেদনকারীর দেশটিতে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই বাছাইয়ের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস এই নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় প্রদান করেন।
ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক বা ক্লিনিক নামের একটি সংস্থা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছিল। আদালত পর্যবেক্ষণে জানান যে, শুধুমাত্র একটি দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে অভিবাসী ভিসা আটকে রাখা অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের পরিপন্থী।
এটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে বলেও আদালত উল্লেখ করেন। আদালতের এই রায়ের ফলে গত ২১ আগস্ট থেকে স্থগিতাদেশটি অকার্যকর হয়ে গেছে। গত ২৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটেও এই তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত ৭৫টি দেশের নাগরিকরা এখন থেকে পুনরায় অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনকারীদের ভিসাসংক্রান্ত অন্যান্য সকল প্রচলিত শর্তাবলী যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে।
উল্লেখ্য যে, স্থগিতাদেশ চলাকালে যাদের ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল সেগুলো বহাল ছিল এবং নতুন আবেদনের সাক্ষাৎকার গ্রহণের প্রক্রিয়াও সচল ছিল। মূলত আবেদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ভিসা প্রদানের প্রক্রিয়াটি স্থগিত ছিল যা এখন উন্মুক্ত হলো।
এস এম/ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
FAQ
১. বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা কি আবার চালু হয়েছে?
হ্যাঁ। বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যুতে জানুয়ারি ২০২৬ থেকে চলা নির্দিষ্ট স্থগিতাদেশ ২১ আগস্ট থেকে আর কার্যকর নেই।
২. এই সিদ্ধান্ত কি ভিসা নিশ্চিত হওয়ার অর্থ?
না। স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়া মানে আবেদনকারীর ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হবে না। অন্যান্য প্রচলিত যোগ্যতা ও যাচাইয়ের শর্ত পূরণ করতে হবে।
৩. বাংলাদেশ কি ৭৫ দেশের তালিকায় ছিল?
হ্যাঁ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জানুয়ারির তালিকায় বাংলাদেশ ছিল।
৪. স্থগিতাদেশের সময় কি ভিসার সাক্ষাৎকার নেওয়া হতো?
হ্যাঁ। স্থগিতাদেশ মূলত ভিসা ইস্যু করার পর্যায়ে প্রভাব ফেলেছিল; আবেদন ও সাক্ষাৎকারের প্রক্রিয়া চালু থাকতে পারত।
৫. শুধুমাত্র স্থগিতাদেশের কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে কী হবে?
আদালতের ২৪ আগস্টের judgment অনুযায়ী, শুধুমাত্র ওই নীতির ভিত্তিতে করা ভিসা প্রত্যাখ্যান বাতিল করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠাতে হবে।
