ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তিনবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন। সেই দলটিই সর্বশেষ দুই মৌসুমে সুুযোগ পায়নি চ্যাম্পিয়নস লিগে। গত মৌসুমে তো ইউরোপের কোনো স্তরের টুর্নামেন্টেই সুযোগ পায়নি ইউনাইটেড। সেই দলটি চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরল বড় জয় দিয়ে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন দল সাবাহ এফকেকে ৪–০ গোলে হারিয়ে প্রত্যাবর্তন রাঙিয়েছে ইউনাইটেড।
বৃহস্পতিবার রাতে বড় জয় পেয়েছে আরেক ইউরোপীয় পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখও। ঘরের মাঠে তারা পেয়েছে ৫–০ গোলের জয়। গত মৌসুমের চমক নরওয়েজীয় ক্লাব বোডো/গ্লিমটকে হারিয়েছে ছয়বারের চ্যাম্পিয়নরা।
সাবাহ ব্যর্থ হলেও বড় জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিষেক রাঙিয়েছে আরেক নবাগত কোমো। ইতালিয়ান ক্লাবটি ঘরের মাঠে ৪–১ গোলে হারিয়েছে জার্মান ক্লাব লাইপজিগকে।
রাতের আরেক ম্যাচে প্রাগে যোগ করা সময়ে ২ গোল করে স্বাগতিক স্লাভিয়া প্রাগকে ৩–২ গোলে হারিয়েছে ফরাসি ক্লাব লাঁস। দিনের প্রথম দুটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। ইতালিয়ান ক্লাব রোমাকে ঘরের মাঠে রুখে দিয়েছে তুর্কি ক্লাব ফেনেরাবাচে (১–১)। ডাচ ক্লাব পিএসভি আইন্দহফেন ও ইউক্রেনের শাখতার দোনেৎসকও ড্র করেছে ১–১ গোলে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ৪–০ সাবাহ
ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইউনাইটডের হয়ে গোল করেছেন মাতেউস কুনিয়া, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বেনইয়ামিন সেসকো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।
প্রিমিয়ার লিগে সময়টা ভালো যাচ্ছে না ‘রেড ডেভিল’দের। হাল সিটি, ইপসউইচ ও এভারটনের বিরুদ্ধে প্রথম তিন ম্যাচে সংগ্রহ মাত্র চার পয়েন্ট। তবে নয় বছর আগে প্রতিষ্ঠিত আজারবাইজানের ক্লাব সাবাহর বিপক্ষে শক্তি ও স্কিলের দিক থেকে বেশ স্পষ্ট ব্যবধান গড়ে মাঠ মাতায় মাইকেল ক্যারিকের দল।
ম্যাচের ২৭ মিনিটে তরুণ ডিফেন্ডার প্যাট্রিক ডরগুর দুর্দান্ত ক্রস থেকে পোস্টের কাছ থেকে পা ছুঁইয়ে গোলমুখ খোলেন কুনিয়া। প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগেই ৩ মিনিটের ব্যবধানে আরও দুই গোল করে জয়ের ভিত গড়ে ফেলে ইউনাইটেড। টিলেমান্সের পাস ধরে ঠাণ্ডা মাথায় দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন অধিনায়ক ফার্নান্দেজ। একটু পরই এমবেউমোর পাসে সাবাহর গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে জড়ান সেসকো।
দ্বিতীয় অর্ধের শুরুতেই একরাশ ভুলের মাশুল গোলে দিতে হয় সফরকারীদের। ফ্রি-কিক থেকে জিরকজির তৈরি করা আক্রমণ ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করেন সাবাহর কাজাখ গোলরক্ষক পকাতিলেভ। সুযোগ কাজ লাগিয়ে ফাঁকা জালে সহজেই বল পাঠান আর্জেন্টাইন তারকা লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।
সিটির বিপক্ষে রবিবারের ম্যানচেস্টার ডার্বির আগে সহজ এক জয়ে নিজেদের প্রস্তুত করে নিল ক্যারিকের শিষ্যরা।
বায়ার্ন ৫–০ বোডো/গ্লিমট
প্রথমার্ধে বোডো/গ্লিমটের রক্ষণে ধাক্কা খেয়ে বারবার হতাশ হতে হলেও দ্বিতীয়ার্ধে চেনা ছন্দে ফেরে বায়ার্ন মিউনিখ। বিরতির পর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসাল ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। ৪৭ মিনিটে জামাল মুসিয়ালার ডেডলক ভাঙার পর হ্যারি কেইন, আলফনসো ডেভিস ও মাইকেল ওলিসের ঝড়ে বোডো/গ্লিমটকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বায়ার্ন।
ঘরের মাঠে বিরতির ঠিক দুই মিনিট পর গতিময় এক শটে গোলমুখ খোলেন মুসিয়ালা। সেখান থেকেই যেন খুলে যায় বায়ার্নের গোল করার দরজা। ম্যাচের ৬০ মিনিটে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন—বাভারিয়ানদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তাঁর ৩৯ ম্যাচে ৩৪তম গোল। এর কিছুক্ষণ পরই চোখধাঁধানো এক হাফ-ভলিতে স্কোরলাইন ৩-০ করেন আলফনসো ডেভিস।
বায়ার্ন যখন ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে, ঠিক তখনই শেষ দিকে নিজের দুর্দান্ত ব্যক্তিগত ঝলক দেখান মাইকেল ওলিসে। চমৎকার দুই গোল করে শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।