
ছবি : সংগৃহীত
🎧অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন
বাংলাদেশের স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১)-এর দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছিল ভারতীয় পুরোনো একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ। গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় এ বিষয়ে সতর্কবার্তা পায় বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন। এরপর কয়েক দিন উৎকণ্ঠার মধ্যে স্যাটেলাইটটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেন প্রকৌশলীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ নজরদারি ও ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম স্পেস ট্র্যাকার থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, ধ্বংসাবশেষটি বিএস-১-এর খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। এতে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। বিএসসিএল পরে জানতে পারে, ধ্বংসাবশেষটি ভারতের ইনস্যাট-১এ স্যাটেলাইটের। ১৯৮২ সালের ১০ এপ্রিল উৎক্ষেপণের পর একই বছরের সেপ্টেম্বরে স্যাটেলাইটটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল।
বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানান, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর প্রকৌশলীদের ছুটি বাতিল করে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হয়। ধ্বংসাবশেষের গতিপথ বিশ্লেষণ করে ১৩ আগস্ট বিএস-১কে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার হওয়ার পর সেটিকে আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি জানান, একপর্যায়ে ধ্বংসাবশেষটি বিএস-১-এর মাত্র ৮৫২ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল। তবে কোনো ক্ষতি ছাড়াই স্যাটেলাইটটি রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
বিএসসিএল সূত্র জানায়, ২০২১ ও ২০২৫ সালেও বিএস-১ এমন ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। বর্তমানে গাজীপুরের জয়দেবপুর গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলী ২৪ ঘণ্টা স্যাটেলাইটটির ওপর নজরদারি করছেন।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমান বলেন, মহাকাশে স্যাটেলাইটকে নিয়ন্ত্রণ করে সংঘর্ষ এড়ানো অত্যন্ত দক্ষতার বিষয়। বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা সফলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করায় এটি প্রশংসনীয় সাফল্য।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
