
ঢাকা,২৮ অক্টোবর-বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কমানোর সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক মালিকদের চাপের মুখেও পরিচালকদের মেয়াদ কমানো এবং একই পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা সীমিত রাখার প্রস্তাব বহাল রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত সপ্তাহে অর্থ বিভাগে পাঠানো ব্যাংক কোম্পানি আইনের খসড়া সংশোধনীতে একটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের সদস্যসংখ্যা তিনজন থেকে কমিয়ে দুজন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচালকদের টানা মেয়াদ ১২ বছর থেকে কমিয়ে ছয় বছর করার এবং পুনর্নিয়োগের আগে তিন বছরের বিরতি বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া সংস্কার প্রস্তাবেও এসব পরিবর্তনের কথা ছিল। গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই অবস্থানই বজায় রেখেছে।
তবে পরিচালনা পর্ষদের আকার ও স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা নিয়ে আগের প্রস্তাবে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন খসড়ায় পর্ষদের সদস্যসংখ্যা সর্বোচ্চ ২০ জন রাখার পাশাপাশি স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা দুইজন থেকে বাড়িয়ে পাঁচজন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগের প্রস্তাবে পর্ষদের সদস্যসংখ্যা ১৫ জনে সীমাবদ্ধ রেখে অন্তত অর্ধেক আসন স্বতন্ত্র পরিচালকদের জন্য বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছিল।
নতুন প্রস্তাবে ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে কৌশলগত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ধারণের ১০ শতাংশ সীমা শিথিল করার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এসব সংস্কারের বিরোধিতা করে আসছে। সংগঠনটির দাবি, পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের সর্বোচ্চ তিনজন সদস্য রাখার সুযোগ এবং পরিচালকদের মেয়াদ নয় বছর করা হোক।
মন্দ ঋণে বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুডি’সের ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ খেলাপি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের আগে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে খসড়াটি পর্যালোচনা করা হবে। আসন্ন সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন ও পাস করাই সরকারের লক্ষ্য।
এস এম/ ২৮ অক্টোবর ২০২৬



