
সিউল, ২৮ সেপ্টেম্বর- চুুক্তির তথ্য ফাঁস ও সেনাদের দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তরের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার ঘটনায় চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে সিউলে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ইউক্রেন সরকারের কাছে ঘটনার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
ইউক্রেনে বন্দী উত্তর কোরিয়ার সেনাদের দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তরের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার ঘটনায় চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে সিউলে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ইউক্রেন সরকারের কাছে ঘটনার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আন্দ্রি ভিয়েশকিনকে পররাষ্ট্র দপ্তরে ডেকে সরকারের তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের কথা জানানো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে চুক্তি ছিল, উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি গোপন রাখা হবে। কিন্তু গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সেই হস্তান্তরের বিষয়টি প্রকাশ করে দেন। দক্ষিণ কোরিয়ার মতে, এটি দুই দেশের মধ্যে হওয়া দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়ার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
গোপনীয়তার কোনো চুক্তি ছিল না—ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইউন-জু বলেন, গোপন চুক্তির বিষয়টি অস্বীকার করে অসত্য তথ্য প্রকাশ করা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে দুই দেশের যৌথ কূটনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বিষয়টি নিজ দেশের সরকারকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন। এর আগে ইউক্রেনের গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্রগুলো দাবি করেছিল, বন্দী হস্তান্তরের বিষয়টি প্রকাশ করার ব্যাপারে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই সমঝোতা ছিল। জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে বন্দী হওয়া দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে তারা সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকেও এ ঘটনা নিয়ে স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি ইউক্রেন সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া যখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে সংলাপের পথ খোঁজার চেষ্টা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ আবার সক্রিয় করার উদ্যোগ চলছে, ঠিক তখন ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ ধরনের তথ্য প্রকাশের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এস এম/ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


