
🎧অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন
মালয়েশিয়ার কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে তার বাকি সাজা গৃহবন্দি অবস্থায় ভোগের অনুমতি দিয়েছেন দেশটির রাজা। বহু বিলিয়ন ডলারের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এটি তার জন্য দ্বিতীয় দফা রাজকীয় ক্ষমা।
শুক্রবার ( ১৮ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়
২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নাজিব। ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁর সহপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েক বিলিয়ন ডলার আত্মসাতের ঘটনায় দুর্নীতির দায়ে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তবে তিনি বরাবরই কোনো ধরনের অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
প্রধানমন্ত্রীর আইনবিষয়ক বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাজা সুলতান ইব্রাহিম নাজিব রাজাককে শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। এর ফলে তিনি ২০২৮ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত তার বাকি সাজা গৃহবন্দি অবস্থায় ভোগ করতে পারবেন।
ওই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় নাজিবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন হিসাবে ১০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীদের মতে, বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ওই জটিল আর্থিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪৫০ কোটি ডলার সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। নাজিবের দাবি, ওই ঘটনায় তাঁকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।
এটি নাজিবের জন্য দ্বিতীয় রাজকীয় ক্ষমা। এর আগে ২০২৪ সালে তৎকালীন রাজা তার ১২ বছরের কারাদণ্ড অর্ধেক করে দেন এবং আরোপিত জরিমানার পরিমাণও কমিয়ে দেন।
গত বছরের ডিসেম্বরে একই আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পৃথক একটি মামলাতেও নাজিব দোষী সাব্যস্ত হন। ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের দায়ে ওই মামলায় তাঁকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ২৮০ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন।
কারাগারে থাকা সত্ত্বেও ৭৩ বছর বয়সী নাজিব মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে একটি বিভাজন সৃষ্টিকারী চরিত্র হিসেবে রয়ে গেছেন। একসময় দেশটির প্রভাবশালী জাতীয় রাজনৈতিক সংগঠনেও তার এখনও উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। দলটি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বহু-দলীয় সরকারের অংশ।
আনোয়ারের জোট নাজিবের প্রতি কোনো ধরনের শিথিলতার বিরোধিতা করে আসছে। ফলে এই ক্ষমার সিদ্ধান্ত তার সরকারের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও বাড়াতে পারে। পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৮ সালের শুরুর আগে হওয়ার কথা নয়। তবে আনোয়ার বলেছেন, মতবিরোধ আরও গভীর হলে তিনি আগাম নির্বাচন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।
শুক্রবার আনোয়ার জনগণকে রাজার সিদ্ধান্তকে সম্মানের সঙ্গে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তার সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং মালয়েশিয়া চুরি ও দুর্নীতির চর্চার কাছে নতি স্বীকার করবে না।
তিনি বলেন, এই দেশ আর কোনো নেতা বা নাগরিকের অসদাচরণ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করাকে হালকাভাবে দেখবে না। এটাই আমাদের অবস্থান।
তবে নাজিব ঠিক কবে কারাগার থেকে বের হওয়ার অনুমতি পাবেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি। এ বিষয়ে তার আইনজীবীরাও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।
মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী সায়াজা শুকরি বলেন, এই ক্ষমার সিদ্ধান্ত আনোয়ারের জন্য রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর এবং আগামী নির্বাচনের আগে নাজিবের রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দিতে পারে।”
সায়াজা শুকরির মতে, এটি ওই রাজনৈতিক দলের জন্য বড় জয় এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তারা আরও আত্মবিশ্বাসী ও শক্তিশালী বোধ করবে। পরিস্থিতি এমন মনে হচ্ছে যে তারা পরবর্তী সরকার গঠনের অপেক্ষায় থাকা দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও জোরালো করতে পারবে।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…