সৌদি-তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয় ;পাকিস্তান – DesheBideshe



মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের আইএসপিআর প্রধান আহমেদ শরীফ চৌধুরীর বক্তব্য
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ‘সম্মিলিত প্রতিরোধ’-ভিত্তিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন আইএসপিআর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।

ইসলামাবাদ, ১৭ সেপ্টেম্বর- সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির কৌশলগত অবস্থান নিয়ে কথা বলেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। সম্প্রতি আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানিয়েছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা জোট কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। এটি পুরোপুরি প্রতিরোধমূলক ও আত্মরক্ষামূলক একটি চুক্তি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই জোটে একই ধরনের চিন্তাধারার আরও নতুন অংশীদার যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সামরিক মুখপাত্র বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের এই ত্রিদেশীয় চুক্তি কোনো ধর্মভিত্তিক জোট হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি। এটি মূলত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অনাগ্রাসন এবং সম্মিলিত প্রতিরোধের নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি নিরাপত্তা কাঠামো। এই জোটের পরিধি বাড়ানো হবে কি না বা নতুন কোনো দেশকে এতে যুক্ত করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত যৌথভাবে তিন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব নেবে বলেও তিনি জানান।

মধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে সেনা মুখপাত্র বলেন, সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের বিদ্যমান সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। পাকিস্তান সব সময় প্রতিটি দেশের সঙ্গে নিরপেক্ষ ও দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক যেমন চীন বা ইরানের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করে না, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সমীকরণও তেহরানের স্বার্থে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কও অটুট থাকবে।

সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সেনা মুখপাত্র জানান, আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেও পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় দেশটির সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ সক্ষম ও সতর্ক রয়েছে।

এস এম/ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬




FAQ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কী?

এটি পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ৭ আগস্ট ২০২৬ মক্কায় স্বাক্ষরিত একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। এর লক্ষ্য তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা।

মক্কা চুক্তি কি কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে?

পাকিস্তানের আইএসপিআর প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তিটি কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং এর কোনও আক্রমণাত্মক বা ‘আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ নেই।

তিন দেশের কোনও একটির ওপর হামলা হলে কী হবে?

চুক্তি অনুযায়ী, একটি সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে কীভাবে সামরিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, তার অপারেশনাল বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

এটি কি শুধু মুসলিম দেশগুলির জোট?

পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, চুক্তিটি শুধুমাত্র মুসলিম দেশগুলির জন্য তৈরি কোনও জোট নয়। ভবিষ্যতে একই ধরনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অনাগ্রাসনের নীতি সমর্থনকারী অংশীদার যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মক্কা চুক্তির কারণে পাকিস্তান-ইরান সম্পর্ক বদলাবে কি?

পাকিস্তানের সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তিটি ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ককে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়নি। ইসলামাবাদ একইসঙ্গে ইরান-সংক্রান্ত আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথাও জানিয়েছে।

Scroll to Top