
ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর – জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট ছয় দফা দাবিতে রাজপথে লং মার্চ কর্মসূচি পালন করছে। কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের বিচার, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন।
গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে এই লং মার্চ শুরু হয়। জোটের নেতারা এই আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এর লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে গণভোট ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে জোটের অনড় অবস্থান এবং সংসদীয় প্রক্রিয়া বর্জনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
বিএনপি সরকার এই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে কাজ করলেও জামায়াত ও মিত্র দলগুলো বিশেষ সংসদীয় কমিটি থেকে দূরে রয়েছে। এদিকে লং মার্চে জ্বালানি অপচয় ও জনভোগান্তি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সমালোচনা এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন যে এই কর্মসূচির ফলে বিপুল পরিমাণ জ্বালানির অপচয় হচ্ছে যা বর্তমান সংকটে জনজীবনকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এছাড়া জোটের বিশাল এই কর্মসূচির অর্থের উৎস নিয়েও স্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে জোটের অন্যতম শরীক এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অন্যদিকে নৈতিক অবক্ষয়ের দায়ে সাতক্ষীরা ৪ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত।
রাজশাহীতেও এক কর্মীর বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বিরোধীদের গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই প্রকৃত গণতান্ত্রিক চর্চা সম্ভব বলে মনে করছেন বোদ্ধারা।
এস এম/ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
