
ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ বন্যায় নেপালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনায় দেশটিতে ভ্রমণ নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বন্যায় পুরো নেপাল পর্যটকদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়নি। দেশটির বেশ কিছু জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ও পাহাড়ি এলাকা এখনও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
বুধবার ২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ট্রাভেলের তথ্য সূত্রে, নেপালের পর্যটনমন্ত্রী খড়ক রাজ পাওডেল বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বন্যার প্রভাব পুরো দেশে পড়েনি। দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করতে পর্যটন চালু রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
নেপালের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন শহর পোখারায় স্বাভাবিকভাবেই পর্যটকদের আনাগোনা চলছে। স্থানীয় ট্যুর অপারেটরদের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, পর্যটকরা সেখানে প্যারাগ্লাইডিং ও বাঞ্জি জাম্পিংয়ের মতো কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
বিজয়ওয়াড়ার দীপক ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস জানিয়েছে, তাদের একটি দল সম্প্রতি পোখারা সফর করেছে এবং কোনো সমস্যার মুখে পড়েনি। শহরটিতে পর্যটন কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুও পর্যটকদের জন্য খোলা রয়েছে। তবে বন্যার কারণে কাঠমান্ডু যাওয়ার প্রচলিত সড়কপথের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় ট্যুর অপারেটর কেশব গুপ্ত পর্যটকদের হেটৌডা মহাসড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। ভারী বৃষ্টির পর পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে কাঠমান্ডু যাওয়ার আগে সর্বশেষ সড়ক পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মুস্তাং অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান মুক্তিনাথ এবং জনকপুরকেও বর্তমানে ভ্রমণের জন্য নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এসব এলাকায় যাওয়ার আগে স্থানীয় আবহাওয়া ও পরিবহন পরিস্থিতি যাচাই করতে বলা হয়েছে।
ট্রেকিং ও পর্বতারোহণের জন্য নেপালের বেশ কিছু জনপ্রিয় অঞ্চলও বন্যায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি। খুম্বু-এভারেস্ট, মানাসলু, মুস্তাং, ডোলপো ও কাঞ্চনজঙ্ঘা বর্তমানে ভ্রমণের জন্য উপযোগী বলে বিবেচিত হচ্ছে।
মানাসলু, ধৌলাগিরি ও পূর্ব নেপালের বিভিন্ন এলাকায় শরৎ মৌসুমের ট্রেকিং ও অভিযানও চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে কাঠমান্ডুতে থাকা শত শত পর্বতারোহী পাহাড়ি এলাকার দিকে যাত্রা করছেন। এ মৌসুমে মানাসলু বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
তবে লাংটাং অঞ্চলকে বর্তমানে বড় ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেখানে হিমবাহের হ্রদ ভেঙে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। লাংটাং ভ্যালি, গোসাইকুণ্ড, তামাং হেরিটেজ ট্রেইল, হেলাম্বু সার্কিট ও রুবি ভ্যালিসহ কয়েকটি ট্রেকিং রুট বন্ধ রয়েছে।
লাংটাংয়ের প্রবেশদ্বার শহর সিয়াব্রুবেশি ও পাসাং লামহু মহাসড়কও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাসুওয়াগাড়ি হয়ে কৈলাস যাওয়ার স্থলপথও বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য নয়।
এ ছাড়া নুওয়াকোট, ধাদিং, গোরখা ও চিতওয়ানের মতো নিম্নাঞ্চলেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল থাকতে পারে।
নেপালে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে পুরো সফর বাতিল করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। বরং সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী ভ্রমণসূচি পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, সড়ক যোগাযোগ ও ট্রেকিং রুটের সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়া জরুরি। কর্তৃপক্ষ নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে।
স্থানীয় ট্যুর অপারেটররা আপাতত ট্রেকিংয়ে না যাওয়ার পরামর্শ দিলেও সাধারণ পর্যটন কার্যক্রমে বড় কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছে।
নেপালের পর্যটনমন্ত্রীও বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নয় এমন এলাকাগুলোতে পর্যটকদের ভ্রমণ স্থানীয় গাইড, হোটেল, রেস্তোরাঁ, চালক ও অন্যান্য পর্যটননির্ভর জনগোষ্ঠীকে এই সংকটের সময়ে সহায়তা করবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নেপাল ভ্রমণে আগের চেয়ে বেশি পরিকল্পনা, নমনীয়তা ও সতর্কতা প্রয়োজন।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…