
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের মোংলায় প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এক কিশোরীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং তা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দিয়ে অর্থ আয়ের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোংলা থানায় মামলা হয়েছে। মামলার ২ ও ৩ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার ২ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণের পর সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে মানসিকভাবে চাপে রাখা হয়। একই সঙ্গে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, এ ঘটনায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ, তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো, ব্ল্যাকমেইল এবং অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীর বাবা মেয়ের নিরাপত্তা ও বিচার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। তার অভিযোগ, ঘটনাটি শুধু ব্ল্যাকমেইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যক্তিগত ভিডিও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আপলোড করে সেগুলো থেকে বিপুল ভিউ এবং অর্থ আয়ের চেষ্টা করা হয়েছে।
মামলার নথিতে কয়েকটি প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্টভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন মানুষের ব্যক্তিগত ভিডিও ব্যবহার করে অনলাইনে কনটেন্ট তৈরি, প্রচার এবং সেখান থেকে অর্থ আয় করছে।
মোংলা থানায় করা মামলা নম্বর ৯/২৬-এর তদন্তে এরই মধ্যে ২ ও ৩ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
তদন্তের স্বার্থে এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষায় পুলিশ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করছে না।
ভুক্তভোগী বিচার দাবি করে তার ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া ওয়েবসাইট ও অনলাইন কনটেন্ট বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তার মতো আর কোনো কিশোরী যেন এমন ঘটনার শিকার না হয়, সেই দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে অনুমতি ছাড়া তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং এসব ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করা গুরুতর অপরাধ। মামলার তদন্তে কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং ব্যক্তিগত ভিডিও ব্যবহার করে কারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একটি ব্যক্তিগত ভিডিও কয়েক সেকেন্ডের হলেও এর প্রভাব একজন ভুক্তভোগীকে দীর্ঘদিন বহন করতে হতে পারে। তাই ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে পরিবার, সমাজ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…