ম্যাকাই টেস্টে বল হাতে রাঙিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন বাংলাদেশ পেসার। ৭ উইকেট নিয়ে ভেঙেছেন ১৮ বছর আগের রেকর্ডও। তাতে ভর করে টিম টাইগার্স অস্ট্রেলিয়াকে থামিয়েছে ২১০ রানে। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে অজিরা লিড পেয়েছে ১৪৬ রানের।
১৫ ওভারে ৩ মেডেনসহ ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে ৭ উইকেট নেয়ার কীর্তি এটি। ২০০৮ সালে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৭ রানে ৬ উইকেট পেয়েছিলেন শাহাদাত হোসেন, সেটিই এতদিন ছিল পেসারদের মধ্যে সেরা বোলিং ফিগার। ১৮ বছর পর এই রেকর্ড ভাঙলেন শরিফুল।
পাশাপাশি অ্যাওয়ে টেস্টে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগারও এখন শরিফুলের। গত জুনে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট পেয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় সেরা বোলিং।
১৪৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় কোনো সফরকারী বাঁহাতি পেসারের ৭ উইকেটের রেকর্ডও এটি।
শনিবার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় টসে হেরে আগে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। ৩৪ ওভার ব্যাট করে ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারী দল। জবাবে নেমে ৫৩.২ ওভার ব্যাট করে ২১০ রানে থামে স্বাগতিকরা।
৮ উইকেটে ১৬৫ রানে রোববার দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিন ৫১ এবং নাথান লায়ন ১০ রানে ব্যাটে নামেন। দিনের অষ্টম ওভারে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন শরিফুল। ক্যামেরন গ্রিনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন। আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। ১৮৬ রানে নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ১০৫ বলে ৬৭ রান করেন করেন গ্রিন।
এরপর শেষ উইকেটে জশ হ্যাজেলউডকে নিয়ে ২৪ রান যোগ করেন নাথান লায়ন। ৫২.৩ ওভারে হ্যাজেলউডকে সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তাইজুল। অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ২১০ রানে। হ্যাজেলউড ৬ রান করেন। নাথান অপরাজিত থাকেন ৩২ রানে।
এর আগে প্রথম স্টিভেন স্মিথ ৪২ রানে এবং ট্রাভিস হেড ২২ রানে আউট হন।
শরিফুলের ৭ উইকেটের পাশাপাশি একটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ব্যাটাররা ধস দেখে। সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরিফুল। মিরাজ ও তাইজুল ১১ রান করে করেন। ১০ রান করেন হাসান মাহমুদ। বাকিদের কেউ পৌঁছাতে পারেনি দুই অঙ্কের ঘরে। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৬৪ রানে।
অজি বোলারদের মধ্যে স্টার্ক ১০ ওভারে ৬ মেডেনসহ ১২ রানে ৬ উইকেট নেন। কামিন্স ৩ উইকেট এবং হ্যাজেলউড নেন এক উইকেট।


