ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল-আসাদ সরকারের গোপন পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তদন্তের সুযোগ পেয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। দামেস্কের একটি অপ্রকাশিত স্থানে কয়েক টন পারমাণবিক পদার্থের সন্ধান পাওয়ার পর সিরিয়ার নতুন প্রশাসন সংস্থাটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সিরিয়ার সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।
সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসন গত মাসে স্বপ্রণোদিত হয়ে ওই স্থানের তথ্য আইএইএকে জানায়। পরে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের একটি দল নতুন শনাক্ত হওয়া স্থানসহ দেইর এয-জোরের একটি স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া পারমাণবিক উপাদানগুলো বিপজ্জনক নয়। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তার আওতায় এগুলো সিরিয়ার হেফাজতেই রাখা হবে।
২০২৪ সালের শেষ দিকে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ আইএইএর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির সাবেক সরকারের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সিরিয়ার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক উপাদানের যাতে কোনো অপব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতে এগুলো আন্তর্জাতিক নজরদারির আওতায় রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সিরিয়ার বর্তমানে সক্রিয় কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নেই বলে মনে করা হয়। তবে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সন্দেহ ছিল।
২০০৭ সালে দেইর এয-জোর এলাকায় একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরাইল। ইসরাইলের ওই হামলার পর স্থাপনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। এখন নতুন করে পাওয়া পারমাণবিক উপাদান ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো সেই পুরোনো কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা খতিয়ে দেখার সুযোগ পেয়েছে আইএইএ।
সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের এই তদন্ত সাবেক আসাদ সরকারের কথিত পারমাণবিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আনতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


