বায়ার্ন মিউনিখের মিডফিল্ডার জামাল মুসিয়ালা চার দিনের মধ্যে দুবার মাঠে লুটিয়ে পড়েছেন। সবশেষ মাঠে লুটিয়ে পড়ার পর নিজের স্বাস্থ্যের সার্বিক অবস্থা জানিয়েছেন এ তারকা মিডফিল্ডার। তিনি নিরাময়যোগ্য ‘অ্যাবসেন্স সিজার’ বা সাময়িক স্নায়বিক বিকলতায় ভুগছেন।
গত শনিবার আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে মুসিয়ালা প্রথম মাঠে পড়ে গিয়েছিলেন। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডিপিএ জানিয়েছিল, সেবার তিনি নিজে হেঁটে মাঠ ছাড়লেও তাকে বেশ বিভ্রান্ত দেখাচ্ছিল। মঙ্গলবার হাইডেনহাইমের বিপক্ষে আরেকটি প্রীতি ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামার পরপরই ২৩ বর্ষী এ জার্মান তারকা আবারও মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উভয় দলের খেলোয়াড়রা তাকে ঘিরে বৃত্ত তৈরি করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া বার্তায় মুসিয়ালা তার এই অসুস্থতার কথা স্বীকার করেন। তিনি ভক্তদের আশ্বস্ত করে জানান, ‘আমি বুঝতে পারছি যে, আপনারা অনেকেই চিন্তিত। আজ আমি সেই উদ্বেগ দূর করতে এবং পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে চাই। স্নায়বিক সমস্যার কারণে আমার স্বল্পস্থায়ী ও সাময়িক তবে নিরাময়যোগ্য ‘অ্যাবসেন্স সিজার’ (এক ধরণের মৃগী রোগ) ধরা পড়েছে।’
‘এ কারণেই সম্প্রতি লাইপজিগ বা হাইডেনহাইমের বিপক্ষে ম্যাচের সময়কার মতো ঘটনাগুলো ঘটেছে। আমি জানি, প্রথম দেখায় বিষয়টিকে উদ্বেগজনক মনে হতে পারে; কিন্তু আমার কাছে এটি এখন দৈনন্দিন জীবনেরই একটি অংশ। আমি উন্নত চিকিৎসা নিচ্ছি এবং এ বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। এফসি বায়ার্ন এবং আমার ব্যক্তিগত সহায়তাকারী সবাই আমার পাশে আছেন এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাকে সাহায্য করছেন।’
মুসিয়ালা শুরুতে বিষয়টি একান্তই ব্যক্তিগত ও ক্লাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিলেন, তবে ভক্তদের উদ্বেগের কারণে তিনি নিজেই বিষয়টি পরিষ্কার করেন। বায়ার্নের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ম্যাক্স এবার্লও জানান যে, ক্লাব তার এই শারীরিক অবস্থার কথা আগে থেকেই জানত।
গত মৌসুমে ক্লাব বিশ্বকাপে পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচে বাঁ পা ভেঙে যাওয়ার পর ২০২৬ সালের শুরুতে বুন্দেসলিগায় ফিরেছিলেন মুসিয়ালা। ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি জার্মানির অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় ছিলেন। শনিবার জার্মান সুপারকাপে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ।


