অস্ট্রেলিয়ান টেনিস তারকা নিক কিরগিওসের শরীরে কোকেনের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল। এরপর ডোপ টেস্টে ব্যর্থ হয়ে তিনি টেনিস থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন। নিজের এই কাজকে ‘মস্ত বড় ভুল’ বলে স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে নিজের কাজের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
স্পেনের মায়োর্কায় একটি এটিপি-২৫০ আসর চলাকালীন গত ২২ জুন তার এই ডোপ পরীক্ষা করা হয়। ৩১ বছর বয়সী এই তারকা প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ ড্রাগ ব্যবহারের দায়ে এখন তিন মাস থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন। গত ৪ আগস্ট থেকে কিরগিওসকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল টেনিস ইন্টিগ্রিটি এজেন্সি জানিয়েছে, ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ১৩ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ে ওঠা কিরগিওস চাইলে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করতে পারতেন, তবে তিনি এখনও তা করেননি। বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থার ল্যাবরেটরি গত ১৭ জুলাই এই পজিটিভ ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরীক্ষার নমুনায় কোকেনের মেটাবোলাইট ‘বেঞ্জয়েলেকগোনিন’ এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। সাবেক এই উইম্বলডন ফাইনালিস্ট বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পুরুষ ও নারী টেনিস ট্যুর এবং অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পর্যায়ের কোনো ইভেন্টে খেলা, কোচিং করানো বা উপস্থিত থাকার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক আবেগঘন পোস্টে কিরগিওস নিজের ভুল স্বীকার করে লেখেন, ‘সম্প্রতি মায়োর্কায় একটি ডোপ টেস্টে আমার শরীরে কোকেন ধরা পড়েছে। আমি একটি মস্ত বড় ভুল করেছি এবং এর সম্পূর্ণ দায়ভার আমি নিচ্ছি। আমার ভক্ত, পরিবার, স্পনসর এবং কাছের সবার কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। সর্বোপরি, যেসব শিশু আমাকে অনুসরণ করে তাদের কাছে আমি দুঃখিত। আমি জানি এতে কী ধরনের দৃষ্টান্ত তৈরি হয় এবং আমি নিজের প্রতি চরম হতাশ।’
চলতি বছর এটিপি ট্যুরে মাত্র চারটি সিঙ্গেলস ম্যাচ খেলা কিরগিওস গত কয়েক বছর ধরে হাঁটু এবং কব্জির চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন। ড্রাগ ব্যবহারের পেছনে কোনো অজুহাত না দাঁড় করালেও তিনি নিজের মানসিক অবস্থার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন, ‘আমি কোনো অজুহাত দিচ্ছি না, তবে আমি কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম তার একটু প্রেক্ষাপট জানাতে চাই। গত কয়েক বছরের চোট আমাকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত করেছে। আমার মন যা চায়, শরীর তা করতে পারছিল না। ক্যারিয়ারের শেষের দিকে এসে এই বাস্তবতা মেনে নেয়া আমার কল্পনার চেয়েও বেশি কঠিন ছিল।’
তিনি আরও জানান যে, টেনিস ছাড়া তার জীবনের অস্তিত্ব ভাবা কঠিন এবং মাঝে মাঝেই তিনি নিজেকে অসহায় ও একাকী অনুভব করতেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে এর কোনোটিই তার ড্রাগ নেয়ার অজুহাত হতে পারে না।
এই ঘটনাটিকে নিজের জন্য একটি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে অভিহিত করে কিরগিওস জানান, আগামী ২৮ দিন তিনি নিজেকে ঠিক করার দিকে মনোযোগ দেবেন এবং এই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনজীবন থেকে পুরোপুরি দূরে থাকবেন। তিনি এই সময়ে সবার কাছে তার ও তার পরিবারের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অনুরোধ জানিয়েছেন এবং নিজেকে শুধরে আরও ভালোভাবে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


