২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এআই কেন্দ্র হতে চায় বেইজিংয়ের ‘ই-টাউন’ | চ্যানেল আই অনলাইন

২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এআই কেন্দ্র হতে চায় বেইজিংয়ের ‘ই-টাউন’ | চ্যানেল আই অনলাইন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর পূর্ণাঙ্গ শিল্প-ইকোসিস্টেম গড়ে তুলে ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক প্রভাবসম্পন্ন এআই কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় বেইজিং অর্থনৈতিক-প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এলাকা, যা ‘ই-টাউন’ নামে পরিচিত। এ সময়ের মধ্যে মূল এআই শিল্প থেকে ২০০ বিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ২৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উৎপাদনমূল্য অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এলাকাটি।

শনিবার (৮ আগস্ট) উন্নয়ন অঞ্চলবিষয়ক চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক খোং লেই এ তথ্য জানিয়েছেন।

শুধু এআই কোম্পানি গড়ে তোলার পরিবর্তে ‘এআই প্লাস’ উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্প, অবকাঠামো এবং নগর ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে ই-টাউন।

খোং লেই বলেন, এআই যুগে প্রতিযোগিতা আর শুধু একটি প্রযুক্তিকে ঘিরে নয়। এর সঙ্গে মৌলিক সক্ষমতা, গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার, অপরিহার্য সফটওয়্যার, মূল ডেটা সম্পদ, প্রয়োগভিত্তিক ইকোসিস্টেম এবং সুশাসনও যুক্ত।

তিনি জানান, ২০২৫ সালে ই-টাউনের জিডিপি ছিল ৪০১ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউয়ান। এ সময় গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১২ দশমিক ১ শতাংশ। বেইজিংয়ের মোট ভূমির মাত্র ১ দশমিক ৩৭ শতাংশজুড়ে অবস্থিত হলেও রাজধানীর শিল্পখাতের মোট মূল্য সংযোজনের প্রায় ৪০ শতাংশ এই এলাকা থেকে এসেছে।

২০২৬-২০৩০ সালের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা শুরুর পর নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা আরও জোরদার করেছে ই-টাউন। একই সঙ্গে এআইয়ের সঙ্গে কোয়ান্টাম বিজ্ঞান, ৬জি যোগাযোগ এবং মহাকাশ প্রযুক্তির সমন্বয়ের উদ্যোগও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ই-টাউনের কৌশলগত অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পও। সমন্বিত সার্কিট শিল্পে বিদ্যমান সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে চিপের নকশা, উৎপাদন, প্যাকেজিং, পরীক্ষা ও কম্পিউটিং সক্ষমতা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি পরিস্থিতিনির্ভর ও শিল্পভিত্তিক এআই চিপের মতো নতুন ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এআইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করছে ই-টাউন। এর অংশ হিসেবে ১ লাখ পেটাফ্লপ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বুদ্ধিমান কম্পিউটিং ক্লাস্টার নির্মাণ করা হচ্ছে। খোং লেইয়ের মতে, ভবিষ্যতের এআই উন্নয়নের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

এদিকে আগস্টের মাঝামাঝি ই-টাউনে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ার্ল্ড রোবট কনফারেন্স। অক্টোবরে হবে ওয়ার্ল্ড ইন্টেলিজেন্ট কানেক্টেড ভেহিকলস কনফারেন্স। রোবোটিক্স ও বুদ্ধিমান পরিবহন প্রযুক্তির সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে সম্মেলন দুটি।

Scroll to Top