স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ তৎকালীন র্যাব-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
শনিবার (৮ আগস্ট) সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে মৌখিক জবানবন্দি নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। দ্রুতই তার আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়া গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা ও আইনজীবী সোহেল রানার জবানবন্দিতেও সালাহউদ্দিন আহমদকে টিএফআই সেলে গুম করে রাখার তথ্য উঠে এসেছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, গুমের পর উদ্ধারের আগ পর্যন্ত প্রায় দুই মাস সালাহউদ্দিন আহমদকে র্যাবের গোপন বন্দিশালা টিএফআই সেলে বন্দি করে নির্যাতন করা হয়েছিল।
এর আগে গত বছরের ৩ জুন শেখ হাসিনাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ দেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
অভিযোগে শেখ হাসিনা ছাড়া অন্যরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ, এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয় বলে তখন অভিযোগ করেছিলেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। সে সময় সালাহউদ্দিন বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্বে ছিলেন।
এর প্রায় দুই মাস পর ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
সালাহউদ্দিনকে আটক করার পর বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে দেশটির ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা করে মেঘালয় পুলিশ। ২০১৫ সালের ২২ জুলাই ভারতের নিম্ন আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগ গঠন করা হয়।
ওই মামলায় ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতের রায়ে খালাস পান সালাহউদ্দিন। ভারত সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তাকে সেখানেই থাকতে হয়। পরে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিলেও খালাস পান তিনি।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ছয় দিন পর, ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।





