শক্তিশালী ডিএফ-১৭ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাপকভাবে মোতায়েন করল চীন – DesheBideshe

শক্তিশালী ডিএফ-১৭ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাপকভাবে মোতায়েন করল চীন – DesheBideshe


শক্তিশালী ডিএফ-১৭ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাপকভাবে মোতায়েন করল চীন – DesheBideshe

বেইজিং, ৬ আগস্ট – ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে হাইপারসনিক অস্ত্রের ক্ষমতা প্রদর্শনের পর এবার নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী ডিএফ-১৭ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাপকভাবে মোতায়েন করেছে চীন। সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভিতে প্রচারিত ডকু সিরিজ ঝিশেং এর একটি ফুটেজে চায়নিজ পিপলস লিবারেশন আর্মি রকেট ফোর্সের অন্তত ছয়টি ডিএফ-১৭ ট্রান্সপোর্টার ইরেক্টর লঞ্চার যানকে একসঙ্গে মহড়া দিতে দেখা যায়।

চীনের গ্লোবাল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামরিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ঝাং জুনশে বলেন, এই প্রদর্শনী নির্দেশ করে যে সিস্টেমটি ব্যাপকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে এবং নির্ভরযোগ্যভাবে যুদ্ধকালীন দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।

তিনি আরও গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন, ডিএফ-১৭ আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা যুদ্ধের নিয়ম বদলে দিতে পারে, কারণ এটি হাইপারসনিক ভেদন ক্ষমতার সুবিধা ব্যবহার করে শত্রুর অগ্রবর্তী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কৌশলগত কমান্ড লক্ষ্যবস্তুগুলোতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।

সাধারণত ৫ ম্যাকের চেয়েও বেশি গতিসম্পন্ন হওয়ায় এবং মাঝআকাশে ক্রমাগত গতিপথ পরিবর্তন করতে পারায় প্রচলিত কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষেই এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র রোখা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের থাড কিংবা প্যাট্রিয়টের মতো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে ফাঁকি দিতে চীন তাদের এই প্রযুক্তি বহুগুণ শক্তিশালী করেছে।

১৮০০ থেকে ২৫০০ কিলোমিটার দূরপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো চীনের অ্যান্টি এক্সেস এরিয়া ডিনায়াল নেটওয়ার্কের মূল অংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক অঞ্চলের ঘাঁটি ও রণতরীগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে সিসিটিভিকে দেওয়া অন্য এক সাক্ষাৎকারে ডিএফ-১৭ সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র ফর্মেশনের প্রশিক্ষণ স্টাফ অফিসার গং চুনইউ বলেন, লাঞ্চার যানের দীর্ঘতর বডি এবং অতিরিক্ত চাকার পাশাপাশি ডিএফ-১৭ এর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ক্ষেপণাস্ত্রটির নিজস্ব আকৃতি।

অতীতের পরিচিত কোণাকৃতির ওয়ারহেডের চেয়ে ডিএফ-১৭ এর ওয়ারহেডে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেখানে এখন চারটি ডানা এবং একটি লেজের পাখনা রয়েছে। এই নকশা একটি অধিক বৈজ্ঞানিক ও উন্নত ধারণার প্রতিফলন।

আমেরিকান মিলিটারি পাওয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯ সালে প্রথম উন্মোচনের পর থেকে চীন এই হাইপারসনিক গ্লাইড যানটিতে পরমাণু অস্ত্র বহনের প্রযুক্তি সংযুক্ত করার পাশাপাশি উন্মুক্ত মাঠে যেকোনো স্থান থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একাধিক লঞ্চার যান একসঙ্গে প্রদর্শন করে বেইজিং মূলত আমেরিকা ও তাদের এশীয় মিত্রদের প্রতি একটি সরাসরি কৌশলগত প্রতিরোধের বার্তা নিশ্চিত করল।

এস এম/ ৬ আগস্ট ২০২৬



Scroll to Top