সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি মেয়াদের বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয় শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, শেখ হাসিনা তাঁর কাছে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু ওই বছরের অক্টোবরে দৈনিক মানবজমিন–এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে আলাপকালে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন বলে তিনি শুনেছেন; কিন্তু তাঁর কাছে এর কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই।
এ বক্তব্য তাঁর ৫ আগস্টের ভাষণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল একে ‘মিথ্যাচার’ ও রাষ্ট্রপতির শপথ লঙ্ঘনের শামিল বলে মন্তব্য করেন।
তখন জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারাসহ বিভিন্ন সংগঠন তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করে এবং বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের চেষ্টা করা হয়। তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়ে একাধিক কর্মসূচিও করেছিল।
পরে বঙ্গভবন থেকে বিবৃতি দিয়ে শেখ হাসিনার পদত্যাগকে ‘মীমাংসিত বিষয়’ বলা হয় এবং এ নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়।
সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে থাকা অবস্থায় মো. সাহাবুদ্দিন দিল্লিতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে একাধিক দৈনিক পত্রিকায় খবর বের হয়। খবরটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়। যদিও এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।



