জুলাইয়ের এই মুখগুলো এখন কোথায়

জুলাইয়ের এই মুখগুলো এখন কোথায়

ঢাবিতে ছাত্রলীগের হামলার শিকার লামিয়া

আন্দোলন দিন দিন আরও বিস্তৃত ও ব্যাপক আকার ধারণ করছিল। এ পরিস্থিতিতে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা। ওই সময় ভিসি চত্বর থেকে আরেক নারী শিক্ষার্থীর হাত ধরে দৌড় দেন লামিয়া রায়হান। এরপরও ছাত্রলীগের একজন লাঠি হাতে তাঁদের ওপর চড়াও হন। ওই সময়ের একটি ছবি ব্যাপক ভাইরাল হয়।

লামিয়া ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী। ৭ জুলাই থেকে আন্দোলনে সরব ছিলেন তিনি।

আজিমপুর এলাকায় ৯ জুলাই কথা হয় লামিয়ার সঙ্গে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘সেদিন ছাত্রলীগের হামলার সময় একজন মেয়ে আমার মতোই কী করবে বুঝে উঠতে না পেরে এদিকে-সেদিক তাকাচ্ছিল। তখন ওর হাত ধরে বলি, চলো, আমরা এদিক দিয়ে দৌড় দিই। আমরা যখন দৌড়াচ্ছিলাম, তখন ছাত্রলীগের কয়েকজন আমাদের মারতে তেড়ে আসে। এ রকমই একটি ছবি সে সময় ভাইরাল হয়, যা আমরা পরে জানতে পারি।’

লামিয়া বলেন, ছবিটি অনেককে আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করেছে জেনে ভালো লাগে। তবে বৈষম্য, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন ছিল, তার বড় অংশই এখনো অপূর্ণ। তাঁর অভিযোগ, একটি গোষ্ঠী জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করায় এ অভ্যুত্থান নিয়ে মানুষের আগ্রহ কমে গেছে।

একটা আক্ষেপ রয়েছে লামিয়ার। জানালেন, গত দুই বছরে জুলাই নিয়ে নানা কর্মসূচিতে তাঁর ভাইরাল ছবি ব্যবহার করা হলেও তাঁকে কখনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে এই সাতজন বিক্ষোভে অংশ নেন, প্রতিবাদ জানান। তবে তাঁদের চাওয়া ছিল অভিন্ন—বৈষম্যহীন বাংলাদেশের বিনির্মাণ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনকে তাঁরা ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখেন। কিন্তু নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে মানুষ রাজপথে নেমেছিল, তার বাস্তবায়নে এখনো অনেক দূর যেতে হবে মনে করেন তাঁরা। তাঁদের প্রত্যাশা, শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তখনই, যখন আইনের শাসন, জবাবদিহি ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।

Scroll to Top