মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: জর্ডানে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত – DesheBideshe

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: জর্ডানে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত – DesheBideshe


মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: জর্ডানে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত – DesheBideshe

আম্মান, ১৯ জুলাই – মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার সরাসরি সংঘাতের আগুন! জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের নজিরবিহীন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলায় অন্তত দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ হামলায় আরও একজন সেনা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, গত ১৭ জুলাই জর্ডানে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর ওপর ইরানের এই আকস্মিক ও তীব্র হামলাটি চালানো হয়। মার্কিন বাহিনী ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করার সময়ই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর আহত অবস্থায় চার মার্কিন সেনাকে দ্রুত উদ্ধার করে জর্ডানের একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা ইতিমধ্যেই ছাড়পত্র পেয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন সেনাসদস্য সামান্য আহত হলেও তারা প্রাথমিক চিকিৎসার পর পুনরায় নিজেদের দায়িত্বস্থলে ফিরে গেছেন। সামরিক নীতি অনুযায়ী, নিহত সেনাদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানো পর্যন্ত তাদের নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে।

এদিকে, হামলার পরপরই এর দায় স্বীকার করে বীরত্ব জাহির করেছে ইরানের এলিট ফোর্স ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)। শনিবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় মার্কিন বাহিনী যে সামরিক ঘাঁটিটি ব্যবহার করছিল, সেটিকেই সুনির্দিষ্ট নিশানা বানিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসির দাবি, তাদের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন ঘাঁটির বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ইরানের এই দাবির বিপরীতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর কিংবা সেন্টকমের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

এই হামলার পর ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। জর্ডানের মাটিতে মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের এই সরাসরি হামলাকে ভূ-রাজনীতিবিদরা চরম ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন প্রশাসন এই হামলার বিপরীতে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের কোনো সামরিক জবাব দিতে পারে। যদি তেমন কিছু ঘটে, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের সূত্রপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এনএন/ ১৯ জুলাই ২০২৬



Scroll to Top