সমাজে ক্ষমতা কেবল রাজনৈতিক নেতাদের হাতে থাকে এই ধারণা অসম্পূর্ণ। ক্ষমতা ছড়িয়ে থাকে নানা স্তরে রাষ্ট্রযন্ত্রে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, গণমাধ্যমে, এমনকি ভাষা ও জ্ঞানের মধ্যেও। ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো দেখিয়েছেন জ্ঞান ও ক্ষমতা একে অপরকে উৎপাদন করে। অর্থাৎ, যারা জ্ঞান তৈরি করেন, তারা পরোক্ষভাবে ক্ষমতার কাঠামোকেও প্রভাবিত করেন। তাহলে প্রশ্ন বুদ্ধিজীবীরা কি ক্ষমতার বাইরে, নাকি তারই অংশ?
একটি প্রগতিশীল ও সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাধারণ অর্থে বুদ্ধিজীবী হলেন তিনি, যিনি তার মেধা, মনন, জ্ঞান এবং দূরদর্শিতা দিয়ে সমাজকে সঠিক পথ দেখান এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। কিন্তু সমকালীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় বুদ্ধিজীবীদের এই চিরাচরিত সংজ্ঞা ও অবস্থান এক বড়সড় প্রশ্নের মুখোমুখি। ক্ষমতা কেবল দৃশ্যমান রাজনৈতিক দল বা নেতাদের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে এই ধারণাটি আজ অসম্পূর্ণ ও সেকেলে। আধুনিক সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ক্ষমতা রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন স্তরে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, গণমাধ্যমে, এমনকি ভাষা ও জ্ঞানের সূ²তম ভাঁজেও লুকিয়ে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল প্রশ্ন সামনে আসে: বুদ্ধিজীবীরা কি এই ক্ষমতার কাঠামোর বাইরে কোনো স্বাধীন সত্তা, নাকি তারা নিজেরাই এই ক্ষমতার অংশ এবং কেন্দ্রবিন্দু?
বুদ্ধিজীবীদের ক্ষমতা-কেন্দ্রিকতা বুঝতে গেলে ফরাসি উত্তর-আধুনিকতাবাদী দার্শনিক মিশেল ফুকোর ‘জ্ঞান-ক্ষমতা’ (কহড়ষিবফমব-চড়বিৎ) তত্ত¡টি আলোচনা করা অপরিহার্য। ফুকো দেখিয়েছেন যে, জ্ঞান এবং ক্ষমতা কোনো বিচ্ছিন্ন উপাদান নয়; বরং এরা একে অপরকে উৎপাদন ও পুনরুৎপাদন করে। সমাজ যাকে ‘সত্য’ বলে গ্রহণ করে, তা আসলে কোনো নিরপেক্ষ সত্য নয়, বরং তা ক্ষমতার কাঠামো দ্বারা নির্মিত।
যাঁরা সমাজে জ্ঞান তৈরি করেন অর্থাৎ বুদ্ধিজীবী, গবেষক, শিক্ষাবিদ তাঁরা আপাতদৃষ্টিতে নিরপেক্ষ মনে হলেও পরোক্ষভাবে ক্ষমতার কাঠামোকেই টিকিয়ে রাখেন এবং প্রভাবিত করেন। বুদ্ধিজীবীরা যখন কোনো তত্ত্ব, নীতি বা মতাদর্শ প্রচার করেন, তখন তা কোনো না কোনোভাবে বিদ্যমান শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দেয়। ফলে, জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ক্ষমতার কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয় এবং বুদ্ধিজীবীরা সেই ক্ষমতারই অন্যতম প্রধান কারিগর হয়ে ওঠেন।
বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে বুদ্ধিজীবীদের অবদান অত্যন্ত গৌরবময়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তবে সমসাময়িক বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবীদের উত্থান এবং তাদের ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসার প্রক্রিয়াটিকে মূলত তিনটি প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা যায়
১. বিশ্ববিদ্যালয় ও একাডেমিয়া: উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো জ্ঞানচর্চার মূল কেন্দ্র। বাংলাদেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদগণ সমাজের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী হিসেবে গণ্য হন।
২. গণমাধ্যম: টেলিভিশন টকশো, সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়, কলাম এবং বর্তমান যুগের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বুদ্ধিজীবীদের মতামত প্রকাশের এবং জনমত গঠনের প্রধান হাতিয়ার।
৩. নীতি-নির্ধারণী প্রতিষ্ঠান: বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা, এনজিও এবং উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান, যেখানে বুদ্ধিজীবীরা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখেন।
উপরোক্ত ক্ষেত্রগুলোকে প্রথম দর্শনে স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত মনে হলেও, গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় এগুলো এক অদৃশ্য ক্ষমতার জালে আবদ্ধ। বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবীদের এই ক্ষেত্রগুলো মূলত রাষ্ট্র এবং পুঁজিপতিদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যেমন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য পদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। পদোন্নতি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা পাওয়ার লোভ অনেক বুদ্ধিজীবীকে ক্ষমতার পুতুল হতে বাধ্য করে। নীতি-নির্ধারণী প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থাগুলো সরকারি অনুদান বা আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর তহবিলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে, তহবিলের শর্ত মেনে বুদ্ধিজীবীদের এমন সব তত্ত্ব বা নীতি প্রণয়ন করতে হয় যা দাতা সংস্থা বা রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করে।
গণমাধ্যমে দৃশ্যমান বুদ্ধিজীবীদের একটি বড় অংশ সরাসরি বড় দুটি রাজনৈতিক শিবিরের (যেমন নীল দল, সাদা দল ইত্যাদি) সাথে যুক্ত। ফলে তাদের মতামত জনকল্যাণমুখী না হয়ে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়। এই বাস্তবতায় একটি সূক্ষ্ণ ও মৌলিক প্রশ্ন তৈরি হয়, যে কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে, যে ক্ষমতার অনুকম্পায় একজন বুদ্ধিজীবী সমাজে নিজের অবস্থান তৈরি করেন, সেই কাঠামোর অবক্ষয় বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কি তিনি নিরপেক্ষভাবে সমালোচনা করতে পারেন? উত্তরটি অধিকাংশ সময়ই নেতিবাচক হয়।
ইতালীয় মার্ক্সবাদী চিন্তাবিদ আন্তোনিও গ্রামসির বুদ্ধিজীবী সংক্রান্ত তত্ত্বটি এক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। গ্রামসি বুদ্ধিজীবীদের প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করেছেন: ‘ঐতিহ্যবাহী বুদ্ধিজীবী’ এবং ‘ জৈব বুদ্ধিজীবী’। ঐতিহ্যবাহী বুদ্ধিজীবীরা নিজেদের সমাজ ও রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন এবং নিরপেক্ষ দাবি করলেও, অবচেতনভাবেই তারা বিদ্যমান শাসকশ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করেন। অন্যদিকে, জৈব বুদ্ধিজীবীরা নির্দিষ্ট কোনো সামাজিক শ্রেণী বা স্বার্থের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকেন। বর্তমান বাংলাদেশে আমরা এক ধরনের ‘নেতিবাচক জৈব বুদ্ধিজীবী’র উত্থান দেখছি, যাঁরা মেহনতি মানুষের পক্ষে কথা না বলে, ক্ষমতার লিপ্সায় শাসকশ্রেণীর ‘জৈব বুদ্ধিজীবী’তে পরিণত হয়েছেন। তারা সরকারের ভুল নীতিকে তাত্ত্বিক রূপ দিয়ে জাস্টিফাই বা বৈধতা দেওয়ার কাজে লিপ্ত থাকেন। এটিই বুদ্ধিজীবীদের খাঁটি ক্ষমতা-কেন্দ্রিকতা।
যখন বুদ্ধিজীবীরা ক্ষমতার বৃত্তে আবর্তিত হতে থাকেন, তখন সমাজের ‘চেতনা’ বা ‘বিবেক’ হিসেবে তাঁদের যে ভূমিকা থাকার কথা ছিল, তা লোপ পায়। রাষ্ট্র যখন কোনো গণবিরোধী নীতি গ্রহণ করে, বাক-স্বাধীনতা হরণ করে কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, তখন ক্ষমতার সুবিধাভোগী বুদ্ধিজীবীরা হয় নীরব থাকেন, না হয় কৌশলে শাসকের পক্ষাবলম্বন করেন। ভাষার রাজনীতি এখানে বড় ভূমিকা পালন করে। সাধারণ মানুষের সহজ-সরল দাবিগুলোকে বুদ্ধিজীবীরা এমন জটিল তাত্ত্বিক ভাষায় উপস্থাপন করেন যে, মূল সমস্যাটি ক্ষমতার আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। জ্ঞান তখন আর শোষিতের মুক্তির অস্ত্র থাকে না, বরং তা শোষকের হাতকে শক্তিশালী করার উপাদানে পরিণত হয়। এর ফলে বুদ্ধিজীবীদের প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থা ও শ্রদ্ধা হ্রাস পায়, যা একটি জাতির বৌদ্ধিক দেউলিয়াত্বের লক্ষণ।
বুদ্ধিজীবীদের ক্ষমতা-কেন্দ্রিকতা কেবল বাংলাদেশের নয়, এটি সমকালীন বিশ্ব রাজনীতিরই একটি বড় সংকট। তবে এই অন্ধকারের মধ্যেও আশার আলো থাকে। সব বুদ্ধিজীবীই ক্ষমতার লোভের কাছে আত্মসমর্পণ করেন না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, প্রতিটি যুগেই এমন কিছু ‘পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল’ বা গণ-বুদ্ধিজীবীর জন্ম হয়, যাঁরা ক্ষমতার তোষামোদি না করে সত্যের পক্ষে দাঁড়ান। নোয়াম চমস্কি বা এডওয়ার্ড সাঈদের মতো চিন্তাবিদগণ দেখিয়েছেন যে, বুদ্ধিজীবীর আসল কাজ হলো ‘ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা, ক্ষমতার মুখে সত্য বলা’।
বাংলাদেশের সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে বুদ্ধিজীবীদের এই ক্ষমতা-কেন্দ্রিকতার বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা ও দলীয় লেজুড়বৃত্তির ঊর্ধ্বে উঠে যতক্ষণ না বুদ্ধিজীবীরা জনগণের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারবেন, ততক্ষণ একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব হবে না। বুদ্ধিজীবীদের ক্ষমতার অংশীদার হওয়া নয়, বরং ক্ষমতার ওপর নজরদারি রাখাই হোক তাদের মূল দায়িত্ব।
অনেক সময় রাষ্ট্র, সরকার বা ক্ষমতা বুদ্ধিজীবীদের ব্যবহার করেন নীতির বৈধতা তৈরি করতে, জনমত গঠনে সহায়তা পেতে, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে। অন্যদিকে বুদ্ধিজীবীরাও রাষ্ট্রকে ব্যবহার করেন- নিজেদের প্রভাব বাড়াতে, নীতি নির্ধারণে অংশ নিতে, ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুযোগ অর্জনে। এই সম্পর্ক সরল নয় এটি এক ধরনের পারস্পরিক নির্ভরতা। কিন্তু এখানে রয়েছে ঝুঁকি। যখন সমালোচনার জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়, তখন বুদ্ধিজীবী হয়ে ওঠেন ‘সমর্থক’। ক্ষমতার কাছে থাকলে প্রভাব বাড়ে এটা সত্য। কিন্তু একই সাথে প্রশ্ন ওঠে এই কাছাকাছি থাকা কি স্বাধীনতাকে সীমিত করে?
অনেক বুদ্ধিজীবী যুক্তি দেন ক্ষমতার ভেতরে না থাকলে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। আবার অন্যরা বলেন, ক্ষমতার ভেতরে গেলে সমালোচনার ধার কমে যায়। তাহলে দ্ব›দ্বটা কোথায়? প্রভাব বনাম স্বাধীনতা। বাংলাদেশে একটি প্রচলিত বাস্তবতা হলো ক্ষমতার সাথে ঘনিষ্ঠতা অনেক সময় সুযোগ তৈরি করে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকার সুযোগ, দেশের বাইরে নানা আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে যোগদানের সুযোগ, গণমাধ্যমে দৃশ্যমান উপস্থিতিতি এবং নীতি প্রভাবিত করার সুযোগ ইত্যাদি। এই সুবিধাগুলো অর্জনের জন্য অনেক সময় বুদ্ধিজীবীরা সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে ক্ষমতার সাথে সুর মেলান। প্রশ্ন হলো এটি কি কৌশল, নাকি সুবিধাবাদ?
যে কোনো সমাজে প্রকৃত বুদ্ধিজীবীর পরিচয় ভিন্নমতে প্রকাশে। কিন্তু ভিন্নমত প্রকাশের মূল্য সব সময় সমান নয়। এক্ষেত্রে পেশাগত ঝুঁকি থাকছেই, এছাড়া রয়েছে সামাজিক চাপ ও রাজনৈতিক চাপ, এবং আইনি জটিলতা ইত্যাদি। এসব বিষয়গুলো অনেককে অসংকোচ প্রকাশে সংযত করে তোলে। ফলে পরিবার, পরিজন, পারিপাশির্^কতার চাপে এমন একটি বাস্তবতা তৈরি হয়, যখন সবাই সব কথা বলে না, বা বলবার সাহস হারায়।
গণমাধ্যম বিশ্বব্যাপী বুদ্ধিজীবীদের কণ্ঠ তুলে ধরার একটি প্রধান মাধ্যম। কিন্তু এই মাধ্যম নিজেই কতটা স্বাধীন? যেখানে রয়েছে মালিকানার প্রভাব, রাজনৈতিক সংযোগ, বিজ্ঞাপন নির্ভরতা সর্বপোরি কর্পোরেট জগতের সৃষ্ট শ্রোতে গা-ভাসোনর প্রবণতা। ফলে, কোন কণ্ঠ সামনে আসবে আর কোনটা আসবে না তা অনেক সময় নির্ধারিত হয় অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণে। এই পরিস্থিতিতে বুদ্ধিজীবীদের বক্তব্যও অনেক সময় হয়ে ওঠে ফিল্টার করা বাস্তবতা। যেখানে চলে সত্য গোপন করার প্রয়াশ এবং মিথ্যাকে প্রত্যক্ষাণ না করার নির্মমতা। সবমিলিয়ে বুদ্ধিজীবীদের বক্তব্য হয়ে ওঠে ডিটারজেণ্টের ফেনায় ওঠা বুদবুদের মতো চকচকে আকর্ষণীয় কিন্তু ক্ষণস্থায়ী।
বর্তমান বিশ্বে জ্ঞান উৎপাদন অনেকটাই বৈশ্বিক কাঠামোর সাথে যুক্ত। যা নিয়ন্ত্রণ হয় আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণা তহবিলের মাধ্যমে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সুযোগ সুবিধা পাওয়ায়র হাতছানিতে। এই সংযোগগুলো যেমন নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনে, তেমনি কখনো কখনো নির্দিষ্ট এজেন্ডাও তৈরি করে। কিন্তু লক্ষ করলে দেখা যাবে স্থানীয় বাস্তবতার সাথে এই বৈশ্বিক কাঠামোর বেশরভাগ সময় খাপ খায় না।
একটি সমাজের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয় সংকটের সময়ে। এই সময়েই বোঝা যায় বুদ্ধিজীবীরা ক্ষমতার পাশে, নাকি সত্যের পাশে। সংকটকালীন সময়ে বুদ্ধজীবীদের কেউ কেউ সরব হন, আবার কেউ কৌশলী নীরবতা বেছে নেন, আবার কেউবা অবস্থান পরিবর্তন করে ক্ষমতার পদতলে স্থান করে নেন। বুদ্ধিজীবী ও ক্ষমতার সম্পর্ক কোনো সরল সমীকরণ নয়। এটি একদিকে সহযোগিতা, অন্যদিকে টানাপোড়েন; একদিকে সুযোগ, অন্যদিকে সীমাবদ্ধতা। ক্ষমতার সাথে সম্পর্ক থাকা অপরাধ নয়, কিন্তু সেই সম্পর্ক যদি সত্য বলার ক্ষমতাকে ক্ষীণ করে দেয় তাহলেই সংকট। এবং এখানেই পরবর্তী প্রশ্নটি উঠে আসে যখন এই সম্পর্ক নীতিকে প্রভাবিত করে, তখন বুদ্ধিজীবীদের অবস্থান কোথায় দাঁড়ায়?
(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)



