স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের জেরে চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মানহানির মামলা এগিয়ে না নিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।
সিপিজে এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর সাংবাদিক মেহেদী হাসান, আশরাফ আলী ফারুকী, সালেহ কায়সার এবং শামস মাহমুদ তুষারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কার্যক্রম বন্ধ করা উচিত। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের জেরে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।
সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে ওই চার সাংবাদিককে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
সিপিজের মতে, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। এ ধরনের মামলা সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
প্রসঙ্গত; গত রোববার (১৫ জুন) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে ভুয়া, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর সম্পাদকসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতে বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আদেশ দিয়েছেন।
মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন— দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার এবং বগুড়া প্রতিনিধি শামস।
মামলার আবেদনে বলা হয়, বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে বাদী এবং বগুড়ার সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন রাস্তাকাণ্ডে বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম’ শিরোনামে একটি পোস্ট প্রচার করা হয়।
এছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফর উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
বাদী তানভীর আলম তার আবেদনে উল্লেখ করেন, বিবাদীরা কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব তথ্য প্রচার করেছেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।




