
ঢাকা, ১৪ জুন – রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা জেল আপিলে নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি দাবি করেছেন যে আর্থিক সংকট, পারিবারিক অশান্তি এবং মাদকাসক্তির প্রভাবে তিনি এই ভয়াবহ অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
রোববার হাইকোর্টে করা জেল আপিলে সোহেল রানা জানান যে তিনি অটোরিকশা গ্যারেজে মিস্ত্রির কাজ করতেন এবং নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। মাদকাসক্তির কারণে তার পরিবারে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকত। জবানবন্দিতে সোহেল দাবি করেন যে ঘটনার সময় তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন এবং আর্থিক অভাব ও মাদকের প্রভাবে অনিচ্ছাকৃতভাবে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
তিনি আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়ে জানান যে তার একটি মাত্র ছেলে রয়েছে যার পড়াশোনা ও পরিবারের ভরণপোষণের জন্য আর কেউ নেই।
অন্যদিকে একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি স্বপ্না আক্তার জেল আপিলে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়েছেন।
গত ১১ জুন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাইকোর্টে এই জেল আপিল করেন আসামিরা। রোববার হাইকোর্ট তাদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী গত ১৯ মে পল্লবীর বাসা থেকে বের হওয়ার পর দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে কৌশলে প্রতিবেশী স্বপ্না তার বাসায় ডেকে নেন। পরবর্তীতে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সোহেলের বাসার ভেতর রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরদিন পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
এনএন/ ১৪ জুন ২০২৬






