
ঢাকা, ১৪ জুন – ঢাকার বাইরে জেলা পর্যায়ের সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবায় এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। এখন থেকে জটিল ও মুমূর্ষু রোগীদের আইসিইউ (ICU) সেবার জন্য আর রাজধানী ঢাকা কিংবা বড় বিভাগীয় শহরের দিকে চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকতে হবে না, লাইফ সাপোর্টের জন্য ছুটতে হবে না প্রাইভেট হাসপাতালে। দেশের ১০টি জেলা সদর হাসপাতালে আজ একযোগে চালু করা হয়েছে অত্যাধুনিক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ সেবা।
আজ রোববার (১৪ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সশরীরে উপস্থিত থেকে এই বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় বাকি ৯টি জেলা সদর হাসপাতালকে ভার্চুয়ালি (অনলাইনে) এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সাথে যুক্ত করা হয়।
প্রাথমিকভাবে দেশের যে ১০টি জেলা সদর হাসপাতালকে এই লাইফ সেভিং নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে, সেগুলো হলো:
১. নারায়ণগঞ্জ
২. মুন্সীগঞ্জ
৩. মাদারীপুর
৪. গোপালগঞ্জ
৫. টাঙ্গাইল
৬. সুনামগঞ্জ
৭. বাগেরহাট
৮. চুয়াডাঙ্গা
৯. যশোর
১০. শেরপুর
শিশুদের জন্যও থাকছে বিশেষ ভেন্টিলেটর: প্রস্তুত জনবল
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস একটি অত্যন্ত স্বস্তির তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, নতুন চালু হওয়া এই আইসিইউ ইউনিটগুলোর প্রতিটিতে প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদের জন্য বিশেষায়িত ‘পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর’ এবং আধুনিক ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
কেবল যন্ত্রপাতিই নয়, আইসিইউ পরিচালনার জন্য দক্ষ চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত জনবলও ইতোমধ্যে পদায়ন করা হয়েছে। ফলে শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক—উভয় ধরনের জটিল রোগীদের জেলা পর্যায়েই আন্তর্জাতিক মানের ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার’ সেবা দিতে এই হাসপাতালগুলো এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

উদ্বোধন শেষে উপস্থিত চিকিৎসক, সার্জন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কড়া ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। জেলা হাসপাতালগুলোর ‘রেফার করার প্রবণতা’ বা রোগী অন্য হাসপাতালে ঠেলে দেওয়ার মানসিকতা বন্ধের ওপর জোর দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আপনাদেরকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, আপনারা রোগীদের পরিপূর্ণ সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। সবসময় চেষ্টা করবেন স্ব স্ব হাসপাতালেই রোগীকে সুস্থ করে তুলতে। চরম জরুরি বা লাইফ-ডেথ পরিস্থিতি না হলে কোনো রোগীকে অন্য হাসপাতালে রেফার করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করবেন না। সেবা দিতে গিয়ে যদি কোনো লজিস্টিক বা যন্ত্রপাতির ঘাটতি থাকে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানান, সরকার তা পূরণ করবে।”
জেলা পর্যায়ে আইসিইউ চালুর এই উদ্যোগকে দেশের স্বাস্থ্য খাতের বিকেন্দ্রীকরণের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ ও ভোগান্তি দুটোই অবিশ্বাস্যভাবে কমিয়ে আনবে।
এনএন/ ১৪ জুন ২০২৬






