
ঝিনাইদহ, ৪ জুন – আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার আরও একটি ভয়ংকর ঘটনা ঘটল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঝিনুকমালা আবাসন এলাকায় ৭ বছরের এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বিল্লাল হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে গণপিটুনির এই ঘটনা ঘটে এবং সন্ধ্যায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
নিহত বিল্লাল হোসেন পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন। তিনি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার দেওলি গ্রামের বরকত উল্লাহর ছেলে হলেও বর্তমানে ঝিনুকমালা আবাসনেই বসবাস করতেন।
আবাসনের বাসিন্দা ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ বিকেলে ঝিনুকমালা আবাসনের ৭ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে মিষ্টি কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখান বিল্লাল হোসেন। এরপর শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি।
ওই সময় শিশুটি ভয়ে চিৎকার শুরু করলে আসেপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসেন। বিপদ বুঝে বিল্লাল হোসেন ঘর থেকে বের হয়ে পালানোর চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে ধরে ফেলে। এরপর শুরু হয় তীব্র গণপিটুনি।গণপিটুনিতে বিল্লাল গুরুতর অসুস্থ ও রক্তাক্ত হয়ে পড়লে স্থানীয়রাই তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং পুলিশকে খবর দেন।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. উমা ইসলাম জানান, বিকেলে বিল্লালকে মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। অবশেষে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) গোকুল চন্দ্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, “শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আবাসনের বাসিন্দারা বিল্লালকে মারধর করেছিলেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এর আগেই বিকেল নাগাদ ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার বিল্লালকে একমাত্র আসামি করে সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছিল। তবে যেহেতু আসামি মারা গেছেন, তাই এখন পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পৃথক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
এই ঘটনাটি সমাজে আবার এক বড় বিতর্ক উসকে দিয়েছে। একদিকে কোমলমতি শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জমে থাকা তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই গণপিটুনিতে। অন্যদিকে, অপরাধী যতই বড় হোক না কেন, দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা কোনো সভ্য সমাজের লক্ষণ হতে পারে না।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, গণপিটুনিতে মৃত্যুর কারণে মূল অপরাধের অনেক তথ্য যেমন চাপা পড়ে যায়, তেমনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা ভবিষ্যতে সমাজে বড় ধরণের বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা ডেকে আনতে পারে।
ঝিনাইদহের এই ঘটনায় পুলিশ এখন হত্যা মামলা দায়েরের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এনএন/ ৪ জুন ২০২৬






