
খুলনা, ৩ জুন – খুলনার রূপসা উপজেলায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) গভীর রাতে ৪ নম্বর টিএসবি বাহিরদিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি শাহীনুর শেখকে (৪৫) লক্ষ্য করে চলন্ত মোটরবাইক থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। গুলি তার মাথায় ও পায়ে লাগায় গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি এখন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক মীর আজ বুধবার (৩ জুন) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার তালতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত শাহীনুর শেখ ওই এলাকারই আতিয়ার শেখের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে প্রতিদিনের মতোই নিজ গ্রামের তালতলা এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে স্থানীয়দের সঙ্গে গল্প করছিলেন বিএনপি নেতা শাহীনুর শেখ। রাত যখন সাড়ে ১০টা, ঠিক তখন একটি মোটরসাইকেলে করে হেলমেট পরিহিত দুই অজ্ঞাতপরিচয় যুবক দ্রুত গতিতে দোকানের সামনে এসে ব্রেক কষে।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাইকের পেছনে থাকা আরোহী শাহীনুরকে টার্গেট করে পিস্তল উঁচিয়ে পরপর গুলি ছুড়তে শুরু করে। প্রথম গুলি শাহীনুরের পায়ে এসে সরাসরি আঘাত করে। দ্বিতীয় গুলি সরাসরি তাঁর মাথা লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়। তবে সৌভাগ্যবশত গুলিটি মাথার খুলি ভেদ না করে চামড়া ও মাংস ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়।
গুলির শব্দে চারদিকে হুড়োহুড়ি ও চিৎকার শুরু হলে হামলাকারী যুবকরা নিমেষের মধ্যে মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে চম্পট দেয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন শাহীনুরকে উদ্ধার করে প্রথমে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পর থেকেই রূপসা থানা পুলিশ ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে।
ওসি আবদুর রাজ্জাক বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হামলার সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কারণ এখনো শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো গভীর পূর্বশত্রুতার জেরে এই পরিকল্পিত কিলিং মিশন চালানো হতে পারে।”
“চায়ের দোকানে এভাবে প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনায় পুরো ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বড় আন্দোলনের ডাক দিতে পারেন।” — স্থানীয় এক বিএনপি কর্মী
ঘটনা ঘটে যাওয়ার বেশ কিছু সময় পার হলেও এলাকায় এখনো এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলেও সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে হেলমেটধারী শুটারদের ট্র্যাক করার চেষ্টা চালাচ্ছে রূপসা থানা পুলিশ।
এনএন/ ৩ জুন ২০২৬






