
তেল আবিব, ১৪ মে – বিশ্বখ্যাত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ (NYT) এবং ইসরায়েল সরকারের মধ্যে শুরু হয়েছে এক নজিরবিহীন আইনি ও কূটনৈতিক যুদ্ধ। ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর পরিকল্পিত যৌন নির্যাতন ও গণধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশের জেরে পত্রিকাটির বিরুদ্ধে মামলা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার এক যৌথ বিবৃতিতে এই কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন।
বিখ্যাত কলামিস্ট নিকোলাস ক্রিস্টফের লেখা ওই নিবন্ধটি যেন ইসরায়েলের ওপর একটি ‘তথ্য-বোমা’ হয়ে আছড়ে পড়েছে। নিবন্ধে তিনি অত্যন্ত ভয়াবহ কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন:
- পদ্ধতিগত যৌন সহিংসতা: ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, বসতি স্থাপনকারী এবং গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেট’-এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনি পুরুষ, নারী এমনকি শিশুদের ওপরও নিয়মিত যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে।
- সদে তেমান আটক কেন্দ্রের বিভীষিকা: আলোচিত ‘সদে তেমান’ ডিটেনশন সেন্টারে একজন বন্দিকে গণধর্ষণের অভিযোগে ইসরায়েলি সৈন্যদের আটকের ঘটনা উল্লেখ করে ক্রিস্টফ দাবি করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি এখন ইসরায়েলি বন্দিশালার নিয়মিত সংস্কৃতি।
ইসরায়েলি সরকার এই নিবন্ধকে ‘‘আধুনিক সংবাদমাধ্যমে ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশিত এ যাবৎকালের সবচেয়ে জঘন্য ও বিকৃত মিথ্যা’’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, নিউ ইয়র্ক টাইমস উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তি:
১. হামাসের অপরাধ আড়ালের চেষ্টা: ইসরায়েলের দাবি, ৭ অক্টোবর হামাস কর্তৃক সংঘটিত যৌন সহিংসতা নিয়ে ইসরায়েলের একটি স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের ঠিক আগেই এই নিবন্ধটি ছাপা হয়েছে।
২. যোগাযোগ উপেক্ষা: ইসরায়েল কয়েক মাস আগেই তাদের নিজস্ব প্রতিবেদন নিয়ে পত্রিকার সাথে যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সেটি গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো ইসরায়েলকে হেয় করার পথ বেছে নিয়েছে।
নিবন্ধের লেখক নিকোলাস ক্রিস্টফ তার অবস্থানে অনড়। তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা নির্যাতনের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। তিনি কেবল সেই ধামাচাপা দেওয়া সত্যগুলোই সামনে এনেছেন।
যদি এই মামলাটি আদালতে গড়ায়, তবে তা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং যুদ্ধের ময়দানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের ক্ষেত্রে এক বিশাল বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে।
ইসরায়েল কি পারবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমকে আইনিভাবে কাবু করতে? নাকি এই মামলার মাধ্যমে ইসরায়েলি কারাগারের ভেতরের অন্ধকার তথ্যগুলো আরও বেশি করে বিশ্ববাসীর সামনে চলে আসবে?
এনএন/ ১৪ মে ২০২৬






