‘জন্মের তে জ্বলছি’
বাজারের এই টানাপোড়েন শুধু হক সাহেব, সাহেদা বেগম বা জমির হোসেনদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, একই লড়াই করছেন শহরের আরও অনেকে। যাঁদের জীবনের গল্পও প্রায় একই রকম কঠিন বাস্তবতায় গাঁথা।
এক বছর আগেও রাজধানীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন বাচ্চু মিয়া। আয় একেবারে খারাপ ছিল না। তবে শরীর সায় দেয়নি। দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের কারণে কাজ ছেড়ে দিতে হয়। এখন সপ্তাহে ছয় দিন মতিঝিল এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রি করেন। আর এক দিন বিশ্রাম নেন।
গতকাল দুপুরে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে কথা হয় বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, মুড়ি বিক্রি করে যে আয় হয়, তা দিয়ে চারজনের চলতে টানাটানি হয়।
চল্লিশোর্ধ্ব বাচ্চু মিয়ার কাছে জানতে চাইলাম নতুন কিছু করার পরিকল্পনা আছে কি না। জবাবে বলেন, ‘স্বপ্ন তো স্যার আছেই একটা দোকান লইয়া যদি বসতে পারি। তয় যেই আয় হয় আর যেই খরচ, তার লগে তো স্বপ্ন মিল খায় না।’
কথা শেষে যখন ফিরে আসছি পেছন থেকে ডাক দিয়ে বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘একটু দোয়া করবেন স্যার। আমার একটু ভালো কিছু জানি হয়। জন্মের তে জ্বলছি।’



