জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহমেদ হত্যা মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ জানিয়েছে তার পরিবার। আদালতের নির্দেশে দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্তের কথা থাকলেও এক বছরেও পিবিআই ভুক্তভোগী পক্ষের মামলার নথি পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের বড় ভাই শাহীন আলম বলেন, প্রশাসনের করা মামলাতেই তদন্ত সীমাবদ্ধ রয়েছে, অন্য মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। এদিকে আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে শামীমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা করা হয়, যা পরে একত্রে তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শামীম আহমেদ ওরফে শামীম মোল্লাকে একদল শিক্ষার্থী পিটিয়ে হত্যা করে। তিনি ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
ঘটনার দুই দিন পর ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশুলিয়া থানায় আটজন শিক্ষার্থীর নাম দিয়ে অজ্ঞাত ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করে।
ওই মামলায় ২৩ সেপ্টেম্বর ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান রায়হান, ২৯ সেপ্টেম্বর ফার্মেসি বিভাগের সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া গ্রেপ্তার হন। একই সময় গ্রেপ্তার হন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের আতিকুজ্জামান। পরে তিনজনই জামিন পান।
প্রশাসনের করা মামলায় অসন্তোষ প্রকাশ করে নিহতের বড় ভাই শাহীন আলম ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আরেকটি হত্যা মামলা করেন।
সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থী, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেফরুল হাসান চৌধুরী সজল, প্রক্টর এ কে এম রশিদুল আলমের নাম দিয়ে অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার বাদী শাহীন আলম বলেন, আদালতে গিয়ে আমার মামলার কোনো নথি পাইনি। পিবিআই ও থানায় যোগাযোগ করেও কোনো অগ্রগতির তথ্য পাইনি।”
শাহীন বলেন, মামলার একাধিক আসামি এখনও ক্যাম্পাসে ‘অবাধে’ ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনো সহযোগিতা তারা পাচ্ছেন না।
তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই আনিসুর রহমান জানান, বর্তমানে শুধু প্রশাসনের মামলার নথিই তাদের কাছে আছে, অন্যটির নথি এখনও পাওয়া যায়নি।
এদিকে শামীম মোল্লা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ এক সিন্ডিকেট সভায় মোহাম্মদ রাজন মিয়া (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ), সোহাগ মিয়া (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ), হামিদুল্লাহ সালমান (ইংরেজি বিভাগ), আহসান লাবিব (বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ), আতিকুজ্জামান আতিক (ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ), মো. মাহমুদুল হাসান রায়হান (ইংরেজি বিভাগ) ও সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়াকে (ফার্মেসি বিভাগ) ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক দুই শিক্ষার্থী সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ ও অর্থনীতি বিভাগের ৩৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ভূঁইয়ার সনদ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।
এদিকে, মামলার আসামি আহসান লাবিব, হামিদুল্লাহ সালমান ও মোহাম্মদ রাজন মিয়াকে গত বছরের ২১ মার্চের পর থেকে ক্যাম্পাসে দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে আহসান লাবিব জাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়ে সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। হামিদুল্লাহ সালমান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পরিবারের দাবি, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচার নিশ্চিত করা হোক।





