ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান, দক্ষ নেতৃত্ব এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবিলায় শিল্পখাত ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ, করপোরেট নির্বাহী ও শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর যুগে সাফল্যের জন্য প্রযুক্তিগত জ্ঞানের পাশাপাশি নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা এবং জীবনমুখী শিক্ষা অপরিহার্য।
শনিবার (১ আগস্ট) গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সেন্টার ফর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট (সিসিডি) আয়োজিত ‘এইচআর সামিট-২০২৬: এমপাওয়ারিং টুডেজ ট্যালেন্ট টু লিড টুমরো’ শীর্ষক দিনব্যাপী সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ, করপোরেট নির্বাহী, শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং তরুণ পেশাজীবীসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সম্মেলনে তিনটি প্যানেল আলোচনা এবং দুটি গোলটেবিল বৈঠকে ভবিষ্যতের কর্মশক্তি, নেতৃত্ব বিকাশ, কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা, ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট, প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, এআই যুগে কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তন এবং শিল্প-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করতে হলে শিল্পখাত ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ-উপযোগী দক্ষতা অর্জন এবং নেতৃত্ব বিকাশে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘এইচআর সামিট শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় ও করপোরেট খাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব তৈরির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।’ তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য শুধু ডিগ্রি প্রদান নয়, শিক্ষার্থীদের দক্ষ পেশাজীবী ও ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে গড়ে তোলা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. খাজা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি কার্যকর যোগাযোগ, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি একজন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অন্যতম বড় সম্পদ। তাদের দক্ষতা, পেশাগত প্রস্তুতি এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ প্রধান এবং করপোরেট নির্বাহীরা অংশ নিয়ে কর্মক্ষেত্রের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং উদ্ভাবনী মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী বক্তা ও আলোচকদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।



