বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এনবিআরকে জানিয়েছে, বন্ড-সুবিধায় সুতার আমদানি দুই অর্থবছরে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে কমে গেছে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত সুতার বিক্রি। দেশীয় সুতা কারখানাগুলো বর্তমানে তাদের উৎপাদনক্ষমতার ৬০ শতাংশ সুতা উৎপাদন করছে। তবে আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে ৫০টি কারখানা। বিদ্যমান ধারা অব্যাহত থাকলে চালু কারখানাগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে বলে উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা।
চালু কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবও এনবিআরের কাছে তুলে ধরেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয় বলেছে, এতে নিকট ভবিষ্যতে নিট পোশাক উৎপাদনকারী কারখানাগুলো আমদানি করা সুতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এর প্রভাবে দেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে, লিড টাইম বাড়বে, মূল্য সংযোজনের পরিমাণ কমবে ও কমবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।
বিটিএমএর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির সদস্য ১ হাজার ৮৬৯, যার মধ্যে সুতা উৎপাদনকারী সদস্য ৫২৭। প্রাথমিক বস্ত্র খাতে তাদের বিনিয়োগ ২ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এ বিনিয়োগের বর্তমান বাজারদর প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান ১৩ শতাংশের বেশি।
বিটিএমএর সহসভাপতি মো. শামীম ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকার যদি সুতা আমদানিতে বন্ড-সুবিধা প্রত্যাহার করে, তাহলে বস্ত্র খাত কিছুটা নিষ্কৃতি পাবে। সাধারণত ভারতের সঙ্গে প্রতি কেজি সুতা উৎপাদনে ১০ থেকে ১৫ সেন্টের ব্যবধান থাকে। এ ব্যবধান এখন হয়ে গেছে ৫০ সেন্ট। আমরা চাই, আপাতত বন্ড-সুবিধা প্রত্যাহার হোক। সরকার চাইলে পরে আবার পর্যালোচনা করতে পারে।’