পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে সমৃদ্ধির পথে। প্রতিদিনই নতুন নতুন অর্জন যোগ হচ্ছে সফলতার পালকে। এখন ক্রয়সক্ষমতা সূচকে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি এক ট্রিলিয়ন ডলার ছুঁই ছুঁই। শুধুমাত্র যে আমরা পরিসংখ্যানেই দৃষ্টি কাড়ছি তা নয়, বরং একটি সামগ্রিক অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। যেমনটা গত ১১ বছরে দেশের মোবাইল আর্থিক সেবা, ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
;
বিকাশের মতো এমএফএস প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের দৈনন্দিন লেনদেনে এনে দিয়েছে স্বাচ্ছন্দ্য, সক্ষমতা ও স্বাধীনতা। পাশাপাশি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের ডিজিটাল অভিযাত্রার সহযোগী হয়ে ক্যাশলেস পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে সমৃদ্ধ করার পথে হাঁটছি আমরা। বাংলাদেশের এমএফএস খাত আজ বিশ্বে উদাহরণ হয়ে উঠেছে ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের বাস্তবসম্মত নীতি-সহায়তার কল্যাণে।
নবীন এই আর্থিক সেবা খাতের বিকাশে নেটওয়ার্ক সংযোগের জন্য মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে অংশীদারত্ব, ক্যাশ ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যাংকের সহায়তা, এমএফএস এজেন্টদের নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য পরিবেশকদের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়ও ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই খাত সংশ্লিষ্ট সবার নিরলস পরিশ্রম সফল হয় যখন সব শ্রেণি পেশার মানুষ তাদের জীবনমান পরিবর্তনের জন্য এমএফএসের ওপর আস্থা রাখতে শুরু করে।
মাত্র এক দশকের ব্যবধানে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে গ্রাহকদের অভ্যস্ততায় ইতিবাচক ও অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। একদম সাধারণ কিন্তু অতি প্রয়োজনীয় যেসব সেবা দিয়ে এমএফএসের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যেমন ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট, সেন্ড মানি- সেই সেবাগুলোর ধারাবাহিকতায় আরও অনেক বৈচিত্র্যপূর্ণ, প্রয়োজনীয় ও গ্রাহকবান্ধব প্রযুক্তিভিত্তিক আর্থিক সেবা চালু হয়েছে।
এমএফএস খাত এখন যে দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গেছে তা বাংলাদেশকে একসময় লেস ক্যাশ বা ক্যাশলেস সমাজ হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। বছরের পর বছর নিরলস প্রচেষ্টার ফলে এখন এ খাতে দেশব্যাপী শক্তিশালী মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। গ্রাহকদের মধ্যে ক্যাশ আউট করার প্রয়োজন এবং প্রবণতাও কমে আসছে। তারা বিভিন্ন মার্চেন্ট পয়েন্টে পণ্য এবং সেবা কিনে ডিজিটাল পদ্ধতিতেই পেমেন্ট করছেন ক্যাশ আউট খরচ এড়িয়ে।
২০২১ সালে এমএফএস প্ল্যাটফর্মে যত ধরনের লেনদেন করা হয়েছে তার একটি বড় অংশ ছিল মার্চেন্ট পেমেন্ট। বাংলাদেশের এমএফএস খাতের একটি অনন্য অর্জন হলো হিউম্যান এটিএম খ্যাত এজেন্টদের নিয়ে দেশজুড়ে বিস্তৃত একটি ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। যা সত্যিকার অর্থেই এই সেবাকে সব শ্রেণির মানুষের কাছে সহজলভ্য করেছে। পাশাপাশি, প্রান্তিক, ছোট, বড়, ক্ষুদ্র, মাঝারি- সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল পেমেন্টের সুযোগ তৈরি করতে শক্তিশালী মার্চেন্ট নেটওয়ার্কও গড়ে তোলা হচ্ছে। যা সার্বিকভাবে ব্যবসায় গতিশীলতা আনছে, তৈরি করছে আরও অনেক সম্ভাবনার পথ। তবে দেশের মানুষকে ক্যাশবিহীন জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে আরও সচেতন ও নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করাটা এই মুহূর্তে একটি অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবার বাইরে থাকা বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর জন্য এমএফএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্ষুদ্র অংকের ঋণসেবা চালু করাটা ছিল সাম্প্রতিক সময়ে একটি অনন্য উদাহরণ। এক বছরব্যাপী সফল পাইলট প্রকল্পের পর সিটি ব্যাংক ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বিকাশ ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল ন্যানো লোন প্রদান করা শুরু করে। গ্রাহকবান্ধব এই সেবা ব্যবহার করে ঋণ গ্রহণের উপযুক্ত গ্রাহক ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারছেন। যা ব্যাংক সেবার বাইরে থাকা লাখ লাখ স্বল্প আয়ের মানুষ ও একইসঙ্গে দেশের কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের দারুণভাবে উপকৃত করছে। আসলে এরাই এ দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এবং আর্থিক সংকটের মুহূর্তে তাদের জন্য বিপদের বন্ধু হয়ে উঠছে এই ন্যানো লোন।

এমএফএস খাতে উদ্ভাবনের আরেকটি চমৎকার উদাহরণ হলো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বে বিকাশ গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল সেভিংস স্কিম বা সঞ্চয় সেবা। অত্যন্ত সহজলভ্য এই সেবার কল্যাণে ব্যবহারকারীর বিকাশ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকলে প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঞ্চয়ের কিস্তি জমা হয়ে যায়। এটি কার্যকর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পথে আরেকটি বড় পদক্ষেপ যা অসংখ্য মানুষকে সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করছে।
নিঃসন্দেহে সঞ্চয় হলো সমৃদ্ধির অন্যতম একটি উপায় ৷ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি এখন আর কারও অজানা নয়। বৈশ্বিক পুঁজি বাজারের মনোযোগও এখন বাংলাদেশের দিকে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অন্তর্গত ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, আলীবাবা গ্রুপের অ্যান্ট গ্রুপ-এরপর বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি বিনিয়োগ ফান্ড, জাপানের সফটব্যাংক সম্প্রতি বিকাশে যে বিনিয়োগ করেছে, তাতে প্রমাণ হয় দেশীয় ভালো প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সক্ষম। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এমএফএস খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সুনিয়ন্ত্রিত এবং নিরাপদ সেবা প্রদান অব্যাহত রাখে তাহলে একদিকে যেমন গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখা সম্ভব হবে, আবার দেশে বিশ্বমানের বিদেশি বিনিয়োগ আনাও সহজ হবে। ডিজিটাল মানির ওপর আস্থা বাড়িয়ে দিয়ে এমএফএস খাত এরই মধ্যে সাধারণের অর্থ ব্যবহারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। তবে এই অগ্রযাত্রার কেবলমাত্র শুরু। আরও নতুন সেবা ও উদ্ভাবন নিয়ে এই খাতের সম্ভাবনা অপার।
বিকাশ উন্নয়নের কথা বলে। যার মাধ্যমে ত্বরান্বিত হয়েছে মানুষের সমৃদ্ধি আর সামাজিক প্রবৃদ্ধি। ২০১১ সালে যাত্রা শুরুর সময় থেকেই বিকাশ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে স্বাধীনতা ও সক্ষমতা এনে দিয়ে তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে কার্যকর করতে দেশজুড়ে সবার জন্য সহজ, নিরাপদ ও সময় সাশ্রয়ী ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করায় এখন টাকা লেনদেনের সমার্থক শব্দ হয়ে গেছে বিকাশ করা। নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানের পাশাপাশি বিকাশ হয়ে উঠেছে মানুষের স্বপ্নপূরণের সহযোগী, একইসাথে ডিজিটাল বাংলাদেশ অভিযাত্রার সহযাত্রী।
যাত্রা শুরুর সময় থেকেই বিকাশ এর ডিএনএ তে রয়েছে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি। সকল কার্যক্রমে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটি সবসময় প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন ও গ্রাহকবান্ধব সেবা চালু করা অব্যাহত রেখেছে। দেশজুড়ে প্রায় তিন লাখ ত্রিশ হাজার এজেন্ট ও পাচ লাখ ৫০ হাজার মার্চেন্টের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ধরনের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিকাশ একটি ক্যাশলেস ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখছে। ফলে, প্রায় ৮ কোটি গ্রাহকের আস্থা নিয়ে বিকাশ এখন প্রতিদিনের সঙ্গী। ব্র্যাক ব্যাংক, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানি ইন মোশন এলএলসি, বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের অন্তর্গত ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, অ্যান্ট গ্রুপ এবং সফটব্যাংক ভিশন ফান্ড এর যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বিকাশ।
২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রিত পেমেন্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল আর্থিক সেবা দিয়ে আসছে। বিকাশ এর অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন সময়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশের ফিনটেক খাতে অগ্রগামী ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ স্টার্টআপ সামিট ২০২৩ এ ফিনটেক পাইওনিয়ার সম্মাননায় ভূষিত হয় বিকাশ। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সেবা খাতে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন কর-ভ্যাট পরিশোধকারী হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃতি পায় বিকাশ। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম পরিচালিত ভোক্তা জরিপে ২০১৯, ২০২০, ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে টানা পাঁচবার দেশ সেরা ব্র্যান্ডের পুরস্কার পায় বিকাশ।
বিশ্বখ্যাত ফরচুন ম্যাগাজিনের ২০১৭ সালের চেঞ্জ দ্য ওয়ার্ল্ড লিস্টে বিশ্বসেরা ৫০টি কোম্পানির মধ্যে ২৩তম স্থান অর্জন করে বিকাশ। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে টেকসই সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখায় এই সম্মান অর্জন করে বিকাশ। এছাড়া, নেলসন আইকিউ পরিচালিত ক্যাম্পাস ট্র্যাক সার্ভে বি স্কুল এ ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালে টানা তিনবার স্বনামধন্য বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে সেরা এমপ্লয়ার অব চয়েস নির্বাচিত হয়। আর আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ডিএইচএল-দ্য ডেইলি স্টার-বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাওয়ার্ড এ ২০২১ সালের ও বেস্ট ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন অব দ্য ইয়ার হিসেবেও স্বীকৃতি পায় বিকাশ। ২০২২ ও ২০২৩ সালে দেশের পরপর দুইবার এশিয়ামানি ও বেস্ট ফর ডিজিটাল সল্যুশন্স ইন বাংলাদেশ পুরস্কার অর্জন করে বিকাশ।
অনলাইন ব্যবসা
এখনই সময় বিকাশ এর সাথে নিজের ব্যবসায় গতি আনার। ব্যবসার পরিধি বাড়িয়ে ফেলার। বিকাশ এর অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের সাইন আপ করে আপনি পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন আরও সহজে। আর সেই সাথে ব্যবসার হিসাব নিকাশও রাখতে পারবেন ঝামেলা ছাড়াই। যদি আপনার মার্চেন্ট একাউন্ট ইতোমধ্যে থেকে থাকে তাহলে আপনি এখনই বিকাশ বিজনেস ড্যাশবোর্ডে সাইন আপ করে ফেলুন। আর যদি আপনার ট্রেড লাইসেন্স না থাকে তাহলে আপনি সহজেই খুলে ফেলতে পারবেন বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট।
মার্চেন্ট
এখন বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টের মাধ্যমে ৭ কোটিরও বেশি বিকাশ গ্রাহক থেকে ডিজিটালভাবে এবং সহজে পেমেন্ট নিতে পারবেন। সেইসাথে আছে বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপ, মার্চেন্ট কিউআর, কাউন্টার পেমেন্ট, ২৪/৭, পেমেন্ট কালেকশন, লেনদেনের বিবরণী এবং আরও অনেক সুবিধা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
এখন থেকে আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করুন আরো সহজে, ঝামেলাহীনভাবে। বিকাশ আপনার জন্য নিয়ে এসেছে নানাবিধ সার্ভিস যার মাধ্যমে আপনি শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য সকলের বিভিন্ন শিক্ষা সম্পর্কিত সকল ফি গ্রহণ করার পাশাপাশি অনুদান, বৃত্তি ইত্যাদি বিতরণ করতে পারবেন মুহূর্তেই।
পে রোল
এখন থেকে খুব সহজেই আপনার গার্মেন্টস, ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি এবং কর্পোরেশনের সকল কর্মীর বেতন, বোনাস সহ সকল ধরনের পেমেন্ট দিন বিকাশ এর মাধ্যমে।
বিকাশ এর পে রোল ডিজিটাল ডিসবার্সমেন্ট সল্যুশন এর মাধ্যমে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের যাবতীয় পেমেন্ট ক্যাশ ছাড়াই সময়মতো ও নিরাপদে প্রদান করতে পারবেন।
কর্পোরেট এবং এন্টারপ্রাইজ
এখন থেকে খুব সহজেই আপনার প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মচারী, ডিএসও, রিটেইলার এবং পার্টনারদের সকল ধরনের পেমেন্ট দিন মুহূর্তেই ডিজিটালভাবে বিকাশ এর মাধ্যমে। বিকাশ এর কর্পোরেট ডিসবার্সমেন্ট এবং কালেকশন সল্যুশন এর মাধ্যমে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় পেমেন্ট ক্যাশ ছাড়াই সময়মতো ও নিরাপদে প্রদান করতে পারবেন।
মাইক্রোফাইন্যান্স
বিকাশ এর মাধ্যমে মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানের পেমেন্ট হবে সহজেই। মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানের যেকোনো কিস্তির টাকা পেমেন্ট হবে সহজে, নিশ্চিন্তে ও স্বচ্ছতার সাথে বিকাশ এর মাইক্রোফাইন্যান্স সেবার মাধ্যমে। এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহক নির্দিষ্ট মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া সঞ্চয়/ডিপিএস, ঋণ এবং অন্যান্য সেবার কিস্তির পেমেন্ট বিকাশ করতে পারবেন সুবিধাজনক সময়ে, খুব সহজেই। এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহক নির্দিষ্ট মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ ও সঞ্চয়ের কিস্তির টাকা দিতে পারবেন। গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তার কিস্তি পেমেন্টে সুযোগ পাচ্ছেন। এক্ষেত্রে একজনের কিস্তি অন্যজনের নামে প্রদানের সুযোগ থাকছে না। গ্রাহক চাইলে কিস্তির টাকার পরিমাণ পরিবর্তন করে একাধিকবার অল্প অল্প করে টাকা প্রদান করে মাসিক-সাপ্তাহিক কিস্তি তারিখের আগে পুরো কিস্তির টাকা প্রদান করতে পারবেন। অর্থাৎ কিস্তির পরিমাণ বেশি হলে, সময়ের আগে ভেঙ্গে ভেঙ্গে দেয়া যাবে।
মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানের সুবিধাসমূহ
কিস্তির টাকা ডিজিটালভাবে কালেকশন। মুহূর্তেই লেনদেনের রিপোর্টিং। কর্মীদের কর্মঘণ্টা সাশ্রয় এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি। ক্যাশ ম্যানেজমেন্টে দক্ষতা বৃদ্ধি । ক্যাশ বহনের ঝুঁকি কম। গ্রাহকের ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যাস।
সাপ্লায়ার
আপনি কি বিকাশ এর একজন নিবন্ধিত সাপ্লায়ার হতে চান। বিকাশ সরাসরি সাপ্লায়ার, কনট্র্যাকটর, কনসালটেন্ট এবং মধ্যস্থতাকারীদের সাথে কাজ করে। বিকাশ এর সাপ্লায়ার হিসেবে একটি চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য অথবা সেবা প্রদান করতে পারেন।
এজেন্ট
আপনি কি প্রায় ৩ লাখ সদস্যের দেশের সবচেয়ে বড় এজেন্ট পরিবারের অংশ হতে চান। তাহলে এখনই বিকাশ এজেন্ট হবার আবেদন করুন। আর একজন বিকাশ এজেন্ট পার্টনার হিসেবে বিকাশ এর সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে সমৃদ্ধি অর্জন করুন।
রুখবো প্রতারক, রাখবো টাকা নিরাপদ
গ্রাহকদের প্রতারণা ও ঝুঁকিমুক্ত ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রদানে বিকাশ সর্বদা সচেষ্ট ও বদ্ধপরিকর। আপনাদের অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং প্রতারণা এড়ানোর জন্য সচেতনতা সৃষ্টি করা বিকাশের লক্ষ্য। মনে রাখতে হবে সচেতনতাই প্রতারণা প্রতিরোধের সর্বোত্তম হাতিয়ার। কী কী উপায়ে প্রতারক চক্র প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে পারে এবং প্রতারিত হয়ে গেলে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। কখনোই বিকাশ একাউন্টের পিন বা ভেরিফিকেশন কোড কাউকে বলবো না বা কলে থাকা অবস্থায় টাইপ করবো না।
এজেন্ট সেজে ভুলে টাকা এসেছে বা ভুল অভিযোগে একাউন্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছে বললে কল কেটে দিবো। বিকাশ কর্মকর্তা সেজে ভয় বা লোভ দেখালে কল কেটে দিবো। অনুদান বা ভাতার কথা বলে কল বা মেসেজ দিলে তা এড়িয়ে যাব। অনলাইনে যত্রতত্র উপহার বা অফারের লিংকে যেতে বললে যাব না। ইমো, মেসেঞ্জার, হোয়াটস আ্যপে পরিচিত কেউ হঠাৎ টাকা চাইলে আগে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে নিতে হবে। পরিজনকে কষ্টার্জিত মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা হুন্ডি বা অন্যান্য অবৈধ উপায়ে না পাঠিয়ে বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করবো, রেমিটেন্সসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় অবদান রাখবো। অনলাইনে বৈদেশিক মুদ্রা কেনা বেচা, বিদেশি স্টক মার্কেটে লেনদেন ও বিনিয়োগ, সেই সাথে জুয়া, ফরেক্স ট্রেডিং, ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন, পঞ্জি স্কিম এবং এ জাতীয় অ্যাপস ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে লেনদেন ও বিনিয়োগ করার মতো অপরাধ থেকে নিজেকে এবং নিজের পরিজনকে বিরত রাখবো। মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন প্রতিরোধ নীতিমালা মেনে চলতে হবে।
প্রতারণার ধরণসমূহ
বিকাশ একাউন্ট ব্লক হয়ে গিয়েছে বলে ভুয়া কল প্রতারক আপনাকে নকল বিকাশ এজেন্ট সেজে ফোন করে এবং দাবি করে যে বিকাশ এর কাছে অভিযোগ করে অন্য বিকাশ একাউন্টের পরিবর্তে ভুলবশত আপনার একাউন্ট ব্লক করে দিয়েছে। এরকম কোনো কল পেলেই বুঝতে হবে সে প্রতারক। অনুদান-ভাতা-উপবৃত্তির ভুয়া কল বা মেসেজ প্রতারকচক্র আপনাকে ভুয়া তথ্য যেমন: বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, সরকারি অনুদান, উপবৃত্তি, পল্লী বিদ্যুৎ সুবিধা ইত্যাদি পাবেন বলে মেসেজ দিয়ে কিছু নির্দিষ্ট নাম্বারে ফোন করে যোগাযোগ করতে বলে অথবা সরাসরি কল করে। প্ররোচিত হয়ে তাদের কথামতো কাজ করলেই আপনি প্রতারণার শিকার হয়ে যেতে পারেন।
একাউন্ট আপডেট বা তথ্য হালনাগাদের কথা বলে প্রতারক আপনাকে নতুন সার্ভিস চালু করা, বিকাশ একাউন্টের তথ্য হালনাগাদ না করলে একাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে এরকম বিভ্রান্তিমূলক কথা বলে আপনার বিকাশ একাউন্টের গোপন তথ্য জেনে নেবার চেষ্টা করে। ইমো, মেসেঞ্জার হোয়াটসঅ্যাপ এ প্রতারকচক্র আপনার পরিচিত কেউ সেজে অথবা পরিচিত কারো ইমো, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদি একাউন্ট হ্যাক করে আপনাকে মেসেজ দেয় এবং ভুয়া ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের মাধ্যমে তাদের দেয়া একটি বিকাশ নাম্বারে সেন্ড মানি বা ক্যাশ ইন করার জন্য অনুরোধ করে। অনুরোধের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা যাচাই না করেই টাকা ক্যাশ ইন বা সেন্ড মানি করলে, প্রতারণার শিকার হবেন।
ভুয়া অফার বা বিজ্ঞাপন
প্রতারক ফেসবুক পোস্ট বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিকাশ এর বিভিন্ন উপহার বা অফারের কথা বলে ফর্ম ফিল আপ করতে বলে এবং ফর্মে কৌশলে আপনার বিকাশ একাউন্টের পিন এবং ভেরিফিকেশন কোড জেনে নেয়। পরবর্তীতে আপনার একাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে ফেলে।
অনলাইন কেনাকাটায় অগ্রীম লেনদেন প্রতারক ফেসবুক পোস্ট বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় বা সেবার নামে অগ্রীম কিছু টাকা বা ডেলিভারি চার্জ দিতে বলে। অনেক সময় পরবর্তীতে সেই পণ্য বা সেবা আর দেয় না বা একটি পণ্যের বদলে অন্য একটি পণ্য ও ত্রুটিযুক্ত পণ্য পাঠিয়ে দেয়। সুতরাং অনলাইন কেনাকাটায় যত্রতত্র অফারের লোভে পড়ে বিকাশ এর মাধ্যমে অগ্রীম টাকা লেনদেন করলে প্রতারকদের কবলে পড়তে পারেন।
অবৈধপথে রেমিটেন্স গ্রহণ প্রতারকরা আপনাকে ভালো বিনিময় মূল্য এবং ব্যাংকিং পদ্ধতি থেকে বিরত প্রদান করার লক্ষ্যে আপনাকে হুন্ডি বা তাদের মাধ্যমে আপনার প্রিয়জনের টাকা গ্রহণ করতে বলে। এইভাবে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স মূলত অবৈধপথে পাঠানো হয়ে থাকে, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অবৈধ অনলাইন বিনিয়োগ ও লেনদেন বিভিন্ন প্রতারক অনলাইন বেশি লাভের লোভ দেখিয়ে অনলাইনে বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা, বিদেশি স্টক মার্কেটে লেনদেন ও বিনিয়োগ, সেই সাথে জুয়া, ফরেক্স ট্রেডিং, ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন, পঞ্জি স্কিম এবং এই জাতীয় অ্যাপস ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে লেনদেন ও বিনিয়োগ করতে বলে। এই ধরনের লেনদেন দেশে প্রচলিত আইন মোতাবেক দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রতারিত হয়ে গেলে করণীয়
আপনার যদি মনে হয় আপনি প্রতারণার শিকার হয়ে গেছেন, তাহলে দ্রুত নিম্নলিখিত পদক্ষেপ অনুসরণ করুন। প্রথমেই বিকাশ হেল্পলাইন ১৬২৪৭ এ কল করে অথবা অন্যান্য গ্রাহক সেবার মাধ্যমে ব্যাপারটি বিকাশ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করুন। প্রতারণা সংঘটনের সময়কাল এবং যেভাবে আপনাকে প্রতারিত করা হয়েছে সেই ঘটনা বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করুন। আপনার বিকাশ একাউন্টের পিনটি দ্রুত পরিবর্তন করে ফেলুন। পিন পরিবর্তনের সময় নতুন পিনটি কারও সাথে শেয়ার করবেন না। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে আপনি বিকাশ হেল্পলাইন ১৬২৪৭ এ কল করে অথবা বিকাশের অন্যান্য গ্রাহক সেবার মাধ্যমে সহায়তা নিতে পারেন। হুন্ডি, অবৈধ রেমিটেন্স, অনলাইনে বৈদেশিক মুদ্রা কেনা বেচা, বিদেশি স্টক মার্কেটে লেনদেন ও বিনিয়োগ, সেই সাথে জুয়া, ফরেক্স ট্রেডিং, ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন, পঞ্জি স্কিম এবং এজাতীয় অ্যাপস ও ওয়েবসাইট পেলে বিকাশ অথবা পুলিশ, সাইবার পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন।
(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)



