দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি-জয়পুরহাট সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর নিয়ে অনিয়ম ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার প্রধান সার্ভেয়ার জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে। ক্ষতিপূরণের ৭৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৬ টাকা ছাড় করিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি এবং কয়েক দফায় ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আসামান আলী।
এ ছাড়া ঘুষের দাবি পূরণ না করায় তাঁর প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের চেক অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আসামান আলী।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে দিনাজপুরের হাকিমপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে আসামান আলী জানান, হিলি পৌর এলাকার বাসুদেবপুর মৌজায় হিলি-জয়পুরহাট সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির সাড়ে ছয় শতক জায়গায় ২০২০ সালে নিজ অর্থায়নে স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। পরে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার যাচাই-বাছাই শেষে ওই স্থাপনার ক্ষতিপূরণ বাবদ তাঁর নামে ৭৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৬ টাকা ৫৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার বিষয়ে শুনানিতে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেন। এরপরও তাঁকে কোনো লিখিত আদেশ বা সিদ্ধান্ত না জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের চেক অন্য জমির মালিক মোবারক হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে তিনি আর্থিক ও প্রশাসনিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
আসামান আলীর আরও অভিযোগ, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার প্রধান সার্ভেয়ার জিয়াউর রহমান ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড় করিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ সময় কয়েক দফায় তাঁকে ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় তাঁর প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের চেক অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আসামান আলী আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) ব্যাংক খোলার সঙ্গে সঙ্গে বিতর্কিত চেকের অর্থ উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি হিসেবে তাঁর প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া এবং এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান সার্ভেয়ার জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ফোনে সব বলা যাবে না। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আছে, আমি কিছু জানি না।’
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁরা কল রিসিভ করেননি।


